কলকাতা – ৯ অগাস্ট অর্থাৎ আগামীকাল আরজি কর-কাণ্ডে মৃত চিকিৎসকের পরিবার ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দিয়েছে। রাজ্য সচিবালয় অভিমুখে এই পদযাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিহত চিকিৎসকের বাবার অভিযোগ, ‘সবাই পাশে থাকার বার্তা দিলেও লড়াইটা আমাদের একার। আমাদেরই বিচার ছিনিয়ে আনতে হবে। তবে সিবিআই অনেক কিছুই আড়াল করার করার চেষ্টা করছে’।
ঠিক এক বছর আগে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মস্থলেই ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছিলেন এক তরুণী চিকিৎসক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ন্যায় বিচারের আশায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। পাশাপাশি তাঁরা আজ অনেকটাই ক্লান্ত, বিষন্ন। বুধবার দিল্লি গিয়ে নির্যাতিতার পরিবার দেখা করেন সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে। তদন্ত নিয়ে তাঁদের একরাশ অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।
আরজিকর ধর্ষণ-খুন মামলায় প্রথমে তদন্তভার হাতে নেয় কলকাতা পুলিশ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। সংস্থার তরফে ইতিমধ্যে ইতিমধ্যেই পাঁচটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট শিয়ালদা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ রিপোর্ট জমা পড়ে ১৬ জুলাই। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোন অগ্রগতি ঘটেনি।
নিহত চিকিৎসকের বাবা তদন্তে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “দিল্লি গিয়ে সিবিআই ডিরেক্টর, জয়েন্ট ডিরেক্টর সঙ্গে দেখা করেছি। পুলিশের ওপর যেমন আস্থা হারিয়েছি, তেমনই সিবিআইয়ের ওপরও আর বিশ্বাস নেই। কলকাতা পুলিশ যা বলেছিল, সিবিআইও তাই তোতা পাখির মতো বলছে।” ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল। “সেদিন মেয়ের মৃতদেহের আগে তিনটি মৃতদেহ ছিল। কিন্তু আমাদের মেয়ের দেহটাই সবার আগে দাহ করা হয়। এত তাড়াহুড়োর কারণ কী ছিল? প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। প্রমাণ আনার দায়িত্ব কী আমাদের, নাকি সিবিআইয়ের? সিবিআই সম্পূর্ণ নির্লজ্জ। আমাদের কোনো দাবি মানা হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।”
রবিবারই পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে মেয়ের মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীতে বিচার দাবিতে রাজ্য সচিবালয় অভিমুখে ‘নবান্ন অভিযান’-এ যোগ দেওয়ার জন্য তাঁরা শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, সঞ্জয় রাই একা নয়, ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে এবং ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
