কলকাতা- বঙ্গে বর্ষা বিদায় হচ্ছে না। সোমবার রাতের টানা কয়েকঘণ্টার বৃষ্টিতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি খাস কলকাতার, তাতে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির লক্ষণ কিছুটা আগেই পাওয়া গিয়েছিল হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। হাওয়া অফিস আগেই ওই ঘূর্ণাবর্তর প্রবল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ মায়ানমার উপকূলের ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে এগোবে উত্তর পশ্চিম দিকে এবং তা পৌঁছবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে।
অন্যদিকে এই নিম্নচাপের রেশ থাকতে থাকতেই সাগরে ফের তৈরি হবে নিম্নচাপ। মৌসম ভবন জানাচ্ছে, ২৫ সেপ্টেম্বর নাগাদ পূর্ব মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে অপর এক নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এটিও এগিয়ে গিয়ে পশ্চিম মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে, তেমন সম্ভাবনার কথাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।
জোড়া নিম্নচাপের আক্রমণে উত্তাল থাকবে সাগর। আগামী কয়েকদিন উত্তর থেকে দক্ষিণ, জেলায় জেলায় তুমুল দুর্যোগের আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎসজীবীদের।
২৭ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় জারি হলুদ সতর্কতা। প্রবল বর্ষণ, সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কা। আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও এখনই উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। দুই পার্বত্য জেলা দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের পাশাপাশি অন্যান্য প্রায় সব জায়গাতেই কম-বেশি বৃষ্টির দাপট চলবে। মালদহ ও দিনাজপুরেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে। শুক্রবার এবং শনিবার দার্জিলিঙে ফের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২২.০৯.২০২৫ থেকে ২৩.০৯.২০২৫ সকাল সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাত ২৪৭.৫ মিমি। শহরের কোন এলাকায় কতটা বৃষ্টি হল গত কয়েকঘণ্টায়? একাধিক সূত্রের তথ্য-
কামডহরি(গড়িয়া)- ৩৩২ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
যোধপুর পার্ক- ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কালিঘাট- ২৮০.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তপসিয়া- ২৭৫ লিমিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বালিগঞ্জ- ২৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
চেতলা- ২৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মোমিনপুর- ২৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
চিংড়িহাটা- ২৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পামার বাজার- ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ধাপা- ২১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সিপিটি ক্যানেল- ২০৯.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উল্টোডাঙ্গা- ২০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কুদঘাট- ২০৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পাগলাডাঙ্গা (ট্যাংরা)- ২০১ মি. মি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কুলিয়া (ট্যাংরা)- ১৯৬মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ঠনঠনিয়া- ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
