কলকাতা- কালীপুজোর পর দিন তিনেক কেটে গেল। এখনও বাংলার বাতাস বাজির বিষ। কালীপুজোর রাত থেকে শুরু হওয়া ধোঁয়ার দাপটে কলকাতার আকাশ এখনও ধূসর।
বাতাসে সালফার, কাঠকয়লা, ক্যাডমিয়াম, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো রাসায়নিকের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে অসংখ্য মানুষের। হু-হু করে বাড়ছে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা, আর সেই চাপ পড়ছে শহরের সরকারি-বেসরকারি দুই ধরনের হাসপাতালের ওপরই।
রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই বাতাসের মান দ্রুত নেমে গিয়েছে বিপজ্জনক স্তরে। সবচেয়ে ভুগছেন তাঁরা, যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুস দুর্বল বা অ্যাজ়মা, সিওপিডি-র মতো সমস্যা রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজ়মার সমস্যা থাকা পাটুলির এক তরুণী কালীপুজোর সন্ধ্যার পর বাজির ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতেই তাঁকে যাদবপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, বাজির ধোঁয়ায় বাতাসের ঘনত্ব এমনই বেড়ে গিয়েছিল যে শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতেও দূর দেখা যাচ্ছিল না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার জানিয়েছেন, সাধারণ সময়ে রাতে গড়ে ৪০-৪৫ জন রোগী আসেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে। কিন্তু কালীপুজোর পরদিন সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭০-এ।
পিয়ারলেস হাসপাতালে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তাঁদের হাসপাতালে ২১ জন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জন শুধুমাত্র শ্বাসকষ্টের কারণে।
ডিসান হাসপাতালেও একই ছবি। এক বিশিষ্ট ফুসফুস বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, প্রতি বছর কালীপুজোর পর এই সমস্যা বাড়ে। যদিও এবার কেউ গুরুতর অসুস্থ হননি, কিন্তু সতর্ক থাকা জরুরি। রোগীদের সন্ধ্যার পর বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
