কলকাতা- বিশ্বকাপজয়ী বাঙালি মহিলা ক্রিকেটার বলতেই এই মুহূর্তে উঠে আসবে তাঁর নাম। অথচ তিনিই নাকি বিশ্বকাপের মতো হাই প্রোফাইল ম্যাচের দুটি খেলা খেলেছিলেন চিড় ধরা আঙুল নিয়ে।
উইকেটকিপার হিসেবে ক্যাচ ধরেছেন, আবার সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি এবং ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দু’টি ছক্কাও মেরেছিলেন।
ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কঠিন সময়ে সাহস জুগিয়েছিলেন তাঁর কোচ শিবশঙ্কর পাল। কলকাতায় আসার পর তিনিই তাঁর প্রথম কোচ ছিলেন।
সেমিফাইনালের আগেই চিড় ধরেছিল রিচার আঙুলে। মহিলা বিশ্বকাপ জেতার আনন্দের মাঝেই তিনি মনে করিয়ে দিলেন কথাটা, যা অনেকেই জানেন না।
তিনি বলেন, ‘রিচা কিন্তু আঙুলে চোট নিয়েই সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল খেলেছে। ওর বাম হাতের মধ্যমায় চিড় রয়েছে। এক দিন ফোনে বলল, স্যর ব্যথা করছে।’
ভারত তখন সেমিফাইনালের দোরগোড়ায়। পিছিয়ে আসার কোনও জায়গাই নেই। তাই ছাত্রীকে সেই মুহূর্তে মনোবল জুগিয়ে একটাই কথা বলেছিলেন শিবশঙ্কর।
সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ থেকে পিছু হঠে না গিয়ে খেলার পরামর্শই দিয়েছিলেন শিবশঙ্কর। ফোনের এপার থেকে ছাত্রীকে বলেছিলেন, ‘এখন এ সব ব্যথা ভুলে যা। ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়ে খেল। বিশ্বকাপের পর দেখা যাবে।’
রিচার মারা মোট চারটি ছক্কা রীতিমতো গ্যালারির দর্শকদেরও মাতিয়ে দিয়েছিল। কোচ শিবশঙ্করের কথায়, ‘হাতের ব্যথা নিয়েই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। ওই ব্যথা নিয়েই বড় বড় ছয় মেরেছে। কতটা মনের জোর থাকলে এমন খেলা যায়।’ প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ির বাসিন্দা বছর বাইশের রিচা ঘোষের আদর্শ মহেন্দ্র সিং ধোনি।
