হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার প্রতীক! ‘বাঁশির পুতুল’-এর ঐতিহ্য, অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন হাওড়ার শিল্পী রাজকুমার

কলকাতা : পুতুল প্রতিটি বাঙালির শৈশবজুড়ে, পুতুল মানেই বাঙালির কাছে নস্টালজিয়া। আর সেই পুতুল মাটির হলে তো কথাই নেই। আলাদা একটা অনুভূতি যেন জুড়ে যায় তার সঙ্গে, জুড়ে যায় বাংলার ঐতিহ্য। বাংলার বিভিন্ন পুতুল নিয়ে এর আগেও বহু ব্লগে লেখা হয়েছে। তবে আজ আমরা বলব হাওড়ার বাঁশি পুতুলের কথা। বাংলার পুতুলের ইতিহাসে হাওড়া জেলার পুতুল ভীষণভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সে রানি পুতুল হোক বা কাঠ কাপড় দিয়ে তৈরি পুতুল।

হাওড়ার পোড়ামাটির বাঁশি পুতুলের স্রষ্টা শিল্পী রাজকুমার দেবনাথ। প্রাচীন ঐতিহ্যকে এখনও বয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি। অনেক পুরনো সভ্যতার কোলে এই পুতুলের শিকড় রয়েছে। বাস্তবের মাটি অবশ্য সেই পুতুল শৈলীকে একপ্রকার অস্তিত্বহীন করে দিয়েছে। তবে শিল্পী রাজকুমার দেবনাথ বাঁশি পুতুলের এই ধারাকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।

জানা যায়, এই শিল্পের শিকড় ছড়িয়ে পূর্ববঙ্গে। বাংলাদেশের ঢাকার চুরান গ্রাম থেকে এই পুতুলের উৎপত্তি। ছোটবেলায় সেই গ্রামের একজন প্রতিবেশীর থেকে দেখে শেখা। তার পর সেই পুতুল তিনি বড় হয়ে বানাতে শুরু করেছিলেন। তাও ৩০ বছর হয়ে গেল। ২০২০ থেকে ব্যবসায়িকভাবে তিনি পুতুল তৈরি করা শুরু করেন। পোড়ামাটির মাছ, হাতি,পাখি, চাকা দেওয়া ঘোড়া, ষাঁড়- বিভিন্ন রঙিন বা রঙ বিহীন পুতুলে ফুঁ দিলেই সুরেলা বাঁশির আওয়াজ হয়। গঙ্গা মাটি কিনে পুড়িয়ে পুতুলগুলো তৈরি করা হয়। বাঁকুড়া, কৃষ্ণনগরের মৃৎ শিল্পীরা এই পুতুল তৈরি শিখতে চান এখন।

শিল্পী জানান, হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো সভ্যতায় এই ধরমের পুতুলের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কোনো ছাঁচ নয়, সম্পূর্ণ হাতের কারুকার্যে সঠিক মাপে তৈরি হয়। না হলে বাঁশির সুর বাজবে না। পুতুলের গড়নে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্যের ছাপ। দামও সাধ্যের মধ্যেই। চাহিদার কারণে এখন বাঁশি পুতুলের গয়নাও বানান রাজকুমার। তাছাড়া বিভিন্ন প্রদর্শনী তাঁর পুতুল প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *