৯৫ হাজার পড়ুয়া স্কুলছুট! সরকারি স্কুলের এমন বেহাল দশা! রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা শুরু শিক্ষা দপ্তরের

কলকাতা- সরকারি স্কুলের অবস্থা খারাপ, এমন আক্ষেপ আমরা অনেকেই করি অনেকে। সেই আক্ষেপ যে সত্যি তার আন্দাজ তো পাওয়া গেল!

রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুলগুলিতে অষ্টম থেকে নবম শ্রেণিতে নথিভুক্ত হয়নি প্রচুর পড়ুয়া। সংখ্যাটা ৯৫ হাজারের কাছাকাছি।

এই ঘটনা সামনে আসায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের কপালে। কীভাবে এবং কেন এত পড়ুয়া স্কুলছুট হল, তা বিশদে জানতে এবার রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা শুরু করতে চলেছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর।

পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের উদ্যোগে অ্যাপের মাধ্যমে নতুন বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই সমীক্ষা শুরু করবে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। সমীক্ষার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে স্যাম্পল সার্ভে শুরু করা হবে। এই সার্ভের নাম দেওয়া হয়েছে ল্যান্ডস্কেপ সার্ভে। তৈরি করা হয়েছে একট অ্যাপ।

এই অ্যাপের মাধ্যমে স্কুলছুট হয়ে যাওয়া পড়ুয়াদের বাড়িতে গিয়ে তাদের বর্তমান হালহকিকত খোঁজ করে সেটি অনলাইনেই নথিভুক্ত করতে হবে।

কিছু পড়ুয়ার বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হয়ে যাওয়া বা অন্য রাজ্যে গিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়ে যাওয়া রয়েছে, সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না শিক্ষা দপ্তর।

জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার সন্দীপ রায় বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন সার্কেলে জুনিয়ার হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নবম শ্রেণিতে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করাচ্ছে না বহু পড়ুয়া। তার পেছনে কী কারণ রয়েছে সেটা জানার জন্যই এই সার্ভে করা হবে। এই পড়ুয়াদের আবার শিক্ষার অঙ্গনে নিয়ে আসা হবে।’

এই কর্মসূচির জেলা কোঅর্ডিনেটর শ্যাম মণ্ডল জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে এই স্কুলছুটের সংখ্যা ৯৫ হাজার। তার মধ্যে জেলা প্রতি এক হাজার করে স্যাম্পল পড়ুয়া নিয়ে এই সার্ভের কাজ শুরু হচ্ছে। শিক্ষাবন্ধু ও পার্শ্বশিক্ষকদের এই সার্ভের জন্য নিযুক্ত করা হবে। সমীক্ষার কাজ এলাকায় গিয়ে করতে হবে। তারপর অনলাইনে তা আপলোড করতে হবে।

শিক্ষা মহলের ধারণা, স্কুলছুটের পিছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যাওয়া। রোজগারের আশায় অল্প বয়সেই এরা পড়াশোনা ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। আবার মেয়েদের ক্ষেত্রে এখনও বাল্যবিবাহের প্রবণতা রয়েছে। কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়ায় অনেকে স্কুলছুট হয়ে যাচ্ছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই সংখ্যাটা খুবই উদ্বেগজনক। তবে শুধু অষ্টম থেকে নবমের জন্যই নয়, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক রেজিস্ট্রেশনের সময়ও প্রচুর ছাত্রছাত্রী অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে। আমরা বাড়ি গিয়ে যখন খোঁজ নিচ্ছি তখন জানতে পারছি, হয় তারা বাবা-মার সঙ্গে ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছে বা নিজেরাই পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে গেলে সরকারকে এই বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে।’

জেলা চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট আধিকারিক শিবেন্দুশেখর জানা বলেন, ‘শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহ আটকাতে চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট বদ্ধপরিকর। আমরা খবর পেলেই এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে স্কুলছুটের বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *