আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর দায় মুখ্যমন্ত্রীর হলে এসআইআর-এ ১৪০ জনের মৃত্যুর দায় কার? অমিত শাহকে প্রশ্ন অভিষেকের

কলকাতা – “অনুপ্রবেশ রোধ করতে হলে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে অপসারণ করা জরুরি”। শিলিগুড়িতে দলের কর্মী সম্মেলন থেকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। অমিত শাহের বক্তব্যের পালটা জবাব দিয়ে তাঁকে নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনুপ্রবেশের নমূনা অমর্ত্য সেন, দেব, ঝুলন গোস্বামী, মহম্মদ শামি”। খসড়া ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের নামের কোনও উল্লেখ নেই কেন এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছিল রাজ্যে এক কোটি থেকে দেড় কোটি রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকা সেই ‘গল্প’ খারিজ করে দিয়েছে।

অভিষেকের প্রশ্ন, যদি সত্যিই রাজ্যে এত সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী ভোটার থেকে থাকে, তাহলে খসড়া ভোটার তালিকায় তাদের কোনও উল্লেখ নেই কেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।

রাজ্যে SIR ইস্যুতে তোলপাড়ের মধ্যেই বিজেপির কাছে ‘অনুপ্রবেশ’ একটি বড় নির্বাচনী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীর নাম রয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিতভাবেই এই ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছেন। শিলিগুড়ির সভায় অমিত শাহও রাজ্যে অনুপ্রবেশ, হিংসা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বছরের পর বছর ধরে ভয় ও অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে’।তবে কমিশনের প্রকাশিত তালিকা সামনে রেখে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সেখানে কোথায় অনুপ্রবেশকারীরা?”

পাশাপাশি অমিত শাহ দাবি করেন, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাহলে এসআইআর এর জন্য যে ১৪০টি প্রাণ গেল, তার দায় কার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *