কলকাতা- আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় এর আগেই দুটি ব্ল্যাক বক্সের একটি উদ্ধার হয়েছিল। এবার হদিস মিলল দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্সের । রবিবার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ‘ককপিট ভয়েস রেকর্ডার’ ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার হয়েছে। এই দুটি ব্ল্যাক বক্স খতিয়ে দেখার পরই এবার দুর্ঘটনার কারণ এবং ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানে কী হয়েছিল তা জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে আহমেদাবাদ। মেঘানিনগরে ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বিমান। বিমানে ২৩০ জন যাত্রী এবং পাইলট, কো-পাইলট সহ ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জনই ভারতীয়। এছাড়া ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন ৫৩ জন, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান। বিমানটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। জীবিত অবস্থায় ফেরেন মাত্র একজন। এছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা নাগরিকদের নিয়ে মোট ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
সব প্লেনেই দু’রকমের ব্ল্যাক বক্স রাখা থাকে। একটি ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর)। অপরটি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর)। কোনও দুর্ঘটনা হলে এই দুই রেকর্ডিং থেকে কী ঘটেছিল সেটার একটা ছবি ভেসে ওঠে তদন্তকারীদের সামনে।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর): এটি ককপিটের অভ্যন্তরের শব্দ, যেমন পাইলট এবং সহ-পাইলটের কথোপকথন রেকর্ড করে।
ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর): এটি বিমানের বিভিন্ন প্যারামিটার যেমন গতি, উচ্চতা, দিক এবং অন্যান্য তথ্য রেকর্ড করে। বিমানের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য থাকে ডিএফডিআর–এ। প্রতিটি সেকেন্ডে বদলে যায় বিমানের অবস্থান। সেই অবস্থান, তার উচ্চতা, গতি, বাইরের তাপমাত্রা, হাওয়ার গতিবেগ, প্রতিটি যন্ত্রাংশের রিডিং — সবকিছু রেকর্ড হতে থাকে ডিএফডিআর এর মধ্যে। তাই আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে এটাই হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা মাধ্যম।
