কলকাতা- ৫৮৯২ টি মামলার মধ্যে মাত্র ৮!
২০২৫ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ ছয় মাসে দেশজুড়ে ৫৮৯২ টি মামলার মধ্যে মাত্র আটটি মামলায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করতে পেরেছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি। শতাংশের বিচারে যা ০.১।
তৃণমূল সংসদ সাকেত গোখেলের প্রশ্নের উত্তরে লিখিত জবাবে সংসদে এই তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরি। কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আটটি মামলায় মোট ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করতে পেরেছে ইডি। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি এই তথ্যের ভিত্তিতে পিএমএলএ বা আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে পরিচালিত তদন্তের ফল এবং তদন্তকারী সংস্থা ইডির দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, এই রাজ্যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে গরুপাচার, কয়লা পাচার-সহ বেশ কিছু আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই-এর পাশাপাশি তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। যদিও রাজ্যের শাসক দল প্রথম থেকেই ইডি-র তদন্ত নিয়ে আদালত থেকে রাজনৈতিক সভায় বারবার শুধু সন্দেহ প্রকাশ করেনি বরং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে ধরেছে।
রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে লিপস এন্ড বাউন্ডস মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা তদন্তকারী আধিকারিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রিতা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাকে সাময়িকভাবে তদন্ত থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিচারপতি জানিয়েছিলেন, ইডির মত বিশেষজ্ঞ এজেন্সির তদন্তের যে গতিপ্রকৃতি বা যে গাফিলতি সামনে উঠে এসেছে তা অত্যন্ত হতাশাজনক।
দেশে দুর্নীতি দমনের জন্য যদি তদন্তের এই হাল হয় তাহলে প্রকৃত দোষীরা সব ক্ষেত্রেই পার পেয়ে যাবেন বলে মত অনেকের। এছাড়াও রাজ্যের শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা সিবিআই ও ইডি-কে বারংবার কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির এজেন্সি বলে কটাক্ষ করে এই কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির দক্ষতা নিয়ে বরাবর প্রশ্ন তুলেছেন। বুধবার সংসদে সেই তৃণমূল দলের সাংসদের প্রশ্নের উত্তরের লিখিত জবাবে এরাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বক্তব্যে যেন সিলমোহর দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরি।
