কলকাতা- মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে জল্পনার অবসান। এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন হুমায়ুন কবীর।
বুধবার তিনি জানিয়ে দিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বেলডাঙা থেকে নয়, বরং রেজিনগর এবং নওদা বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর এদিন রাজ্যের ১৮২টি আসনের প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করেছেন।
বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীর ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি করাচ্ছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলছে। ফলে মনে করা হয়েছিল, তিনি সেখান থেকেই প্রার্থী হবেন।
বুধবার হুমায়ুন স্পষ্ট করেন, বেলডাঙায় তাঁর দলের রাজ্য সভাপতি সৈয়ব আহমেদ কবির লড়াই করবেন। নিজে রেজিনগরের পাশাপাশি নওদাকে বেছে নিয়েছেন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সুযোগ নিতে।
নওদা আসনে তৃণমূল পুনরায় বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খানকে প্রার্থী করেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সাহিনার প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
হুমায়ুন কবীর সেই ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করেই সাহিনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ ভোটব্যাঙ্ক নিজের দিকে টানাই হুমায়ুনের প্রধান লক্ষ্য।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া মুর্শিদাবাদের একাধিক বিধায়কের অনুগামীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন। ফরাক্কার মনিরুল ইসলাম, জলঙ্গির আব্দুর রাজ্জাক এবং বেলডাঙার হাসানুজ্জামানের অনুগামীরা তাঁর ছাতার তলায় আসতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন তিনি।
হুমায়ুনের কথায়, “তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দেওয়াই এখন লক্ষ্য। সেই কারণেই নতুন করে রণকৌশল সাজানো হয়েছে।”
বুধবারের ঘোষিত তালিকায় কান্দি আসনে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসির হায়দারকে।
এর আগে সিপিএম এবং মিমের সঙ্গে জোটের চেষ্টা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে একাই লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন হুমায়ুন। আগামী ২২ মার্চ তিনি পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন।
