কলকাতা- এবারের নির্বাচন শুধু সরকার বদলানোর লড়াই নয়, বরং বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই। রবিবার ব্রিগেডের বিশাল জনসভা থেকে এই ভাষাতেই রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কাটমানি এবং ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ যখনই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তখনই ইতিহাস বদলে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
মোদি অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কেবল রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেনি, বরং আদিবাসী সমাজ এবং কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছে।” দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের গরিমা ক্ষুণ্ণ করার জন্য এই সরকার কঠিন সাজা পাবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মোদির দাবি, শাসকদল প্রতিনিয়ত সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর হামলা চালানোর পথ খোঁজে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করতে চায়।
দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সেনা বাহিনীর বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রসঙ্গেও সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বালাকোটের এয়ার স্ট্রাইকের সময়ও বায়ুসেনার কাছে প্রমাণ চেয়েছিল বিরোধীরা।
ব্রিগেডের জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা। এবারের ভোট দুর্নীতি থেকে মুক্তির নির্বাচন।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গবাসীদের শ্রদ্ধা ও প্রণাম। বাংলার ঐতিহাসিক মাটিতে এই জনসমুদ্র হয়েছে। চারিদিকে শুধু মানুষের ঢল। এই উৎসাহ থেকেই বাংলা কী ভাবছে, কী হতে চলেছে বোঝা যায়। যাদের দেখার তারা যেন দেখে নেয়। ব্রিগেডের ইতিহাস সাক্ষী যখন বাংলা নিজের রায় দেয়। ব্রিগেড থেকেই বাংলার ক্রান্তির বিউগল বেজে গিয়েছে। এবার বাংলার পরিবর্তন আসন্ন। বাংলার মানুষ সেই রায় দেবে। বাংলার নির্মম সরকার শেষ হবে। জঙ্গলরাজ শেষ হবে।’
