১৩ বছরের লড়াইয়ের সমাপ্তি! ভারতে প্রথমবার স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি যুবককে, ঐতিহাসিক রায়

কলকাতা- ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন রায় সুপ্রিম কোর্টের। গাজিয়াবাদের যুবক হরিশ রানাকে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু’র অনুমতি দিল।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১৩ বছর ধরে শয্যাশায়ী এই যুবকের জীবনের যন্ত্রণা আর চিকিৎসকদের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত এই বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শীর্ষ আদালতের এই রায়কে দেশে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে নজরবিহীন রায় হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক রায়ের পর এই প্রথম কোনও নির্দিষ্ট মামলায় স্বেচ্ছা মৃত্যুর নির্দেশ দিল আদালত।

হরিশ রানা বর্তমানে ৩১ বছর বয়সি। ২০১৩ সালে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় একটি পেয়িং গেস্ট আবাসনে থাকতেন। সেই আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসা চললেও হরিশ আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেননি। তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভেজিটেটিভ স্টেটেই থেকে যান।

শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য তাঁর শরীরে ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব বসানো ছিল এবং খাওয়ানোর জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি টিউব ব্যবহার করা হত। এই অবস্থাতেই বিছানায় শুয়ে গত ১৩ বছর ধরে বেঁচে আছেন তিনি।

বাবা-মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্বেগও বাড়তে থাকে। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, ভবিষ্যতে যদি তাঁরা না থাকেন, তবে ছেলের দেখভাল কে করবে! সেই কারণেই সন্তানের জন্য প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা।

শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের বোর্ডের মতামত বিবেচনা করেই আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয়। আদালত জানায়, সাপোর্ট প্রত্যাহারের দুটি কারণ থাকতে হবে। এক, রোগীর জন্য চিকিৎসা হিসেবে এটাই যোগ্য হতে হবে এবং এটি রোগীর জন্য সর্বোত্তম হতে হবে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লির ‘এইমস’-এ হরিশকে ভর্তি করতে হবে। সেখানে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে যাবতীয় সমস্ত নল ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হবে। বিচারপতিরা হরিশের বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *