কলকাতা- প্রায় ২০ বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন তাঁর দাদা। কয়েক বছর আগে চলে যান বাবা-মাও। আত্মীয় বলতে আর কেউ ছিল না তাঁর। বন্ধুবান্ধবও ছিল না। পাড়া-প্রতিবেশিদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল না। একাকিত্ব তাঁকে গ্রাস করেছিল অবসাদ।
নিজেকে ক্রমশ গুটিয়ে নিয়েছিলেন বছর ৫৫-র অনুপকুমার নায়ার। জীবন থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বেছে নিয়েছিলেন স্বেচ্ছানির্বাসন।
গত সপ্তাহে তিন বছরেরও বেশি সময় পরে নবি মুম্বইয়ের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে। এক সময়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতেন অনুপ।
নবি মুম্বইয়ের জুইনগরের সেক্টর ২৪-এর ‘ঘরকুল সোসাইটি’তে তাঁর একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে। গত কয়েক বছর ধরে ওই অ্যাপার্টমেন্টেই নিজেকে বন্দি করে রেখেছিলেন তিনি।
ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে সেখানেই খাবার আনিয়ে নিতেন। এ ছাড়া বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তাঁর আর কোনও যোগাযোগ ছিল না। এমনকী আবর্জনা ফেলার জন্যও কোনওদিন অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে পা রাখেননি তিনি।
‘সোশ্যাল অ্যান্ড ইভানজেলিকাল অ্যাসোসিয়েশন ফর লাভ’ বা ‘সিল’ নামে পানভেলের একটি এনজিও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুপের অবস্থা জানান তাঁরা। এই এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত সমাজকর্মীরাই শেষ পর্যন্ত ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে উদ্ধার করেছে অনুপকে।
ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক আঘাতই তাঁকে এই হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছিল। বাইরের জগৎ থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
অনুপ বলেছেন, ‘আমার বাবা-মা আর নেই। আমার দাদা আর নেই। আমার কোন বন্ধুও নেই। আমার স্বাস্থ্যও ভালো নেই। তাই নতুন করে শুরু করার আর কোনও সুযোগ আমার নেই।’
