১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর জন্ম হলে মা-বাবার নথি লাগবে? সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

কলকাতা- সামনেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। সংশোধিত ভোটার তালিকার জন্য সেই রাজ্যে একটি বিশেষ সমীক্ষা চালু করেছিল নির্বাচন কমিশন।

ভোটারদের বাবা-মায়ের জন্মতারিখের শংসাপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। তার পর শুরু বিতর্ক।

সাংবাদিক বৈঠক করে এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু বদল আনা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে —

বিহারের ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা আপলোড করা হয়েছে। ৪.৯৬ কোটি ভোটারদের কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৪.৯৬ কোটি ভোটারদের মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও নথি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মোট ভোটারদের ৬০ শতাংশকে কোনও নথি জমা দিতে হবে না। বাবা কিংবা মায়ের অন্য কোনও নথির পরিবর্তে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাটি ব্যবহার করতে পারবেন যে কেউ।

কমিশন আগের নির্দেশিকায় জানায়, যে সমস্ত ভোটার ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁদের জন্মতারিখ সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে ১১টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দিতে হবে।

১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ একটি নথি এবং তাঁদের বাবা কিংবা মায়ের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণ রয়েছে এমন নথিও দিতে হবে।

যে সব ভোটার ২ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদেরকে নিজের জন্মতারিখ ও জন্মস্থানের প্রমাণ হিসেবে যে কোনও একটি নথি এবং বাবা-মায়ের জন্মতারিখ ও জন্মস্থান প্রমাণের নথি জমা দিতে হবে। মা-বাবা ভারতীয় না হলে তাঁর পাসপোর্ট ও সন্তান জন্মের সময়কার ভিসার কপি দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, সকলের পক্ষে বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব? কয়েক দশক আগে অনেকের বাড়িতে প্রসব হতো, সে ক্ষেত্রে তাঁরা কী ভাবে এই শংসাপত্র দেবেন। তার পরই কি তা হলে কমিশনের সিদ্ধান্ত বদল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *