কলকাতা- ছোটবেলার স্বপ্ন, সেটাই পূরণ করতে ছুটেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন সফল করে ছাড়লেন!
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শঙ্কর’ কে দেখেই তাঁর উদ্বুদ্ধ হওয়া। নদিয়ার করিমপুরের জ্যোতিষ্ক বিশ্বাস। বিপদে ভরা পথ, হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের ভয়, বিষাক্ত সব পোকামাকড় আর ব্যাপক তুষারঝড়ের মতো প্রতিকূলতা সামলে পৌঁছলেন স্বপ্নের চাঁদের পাহাড়ে। প্রথম বাঙালি হিসেবে সত্যিকারের চাঁদের পাহাড় ছুঁয়ে দেখলেন নদিয়ার করিমপুরের ছেলে জ্যোতিষ্ক। আর এই অসাধ্য সাধন তিনি করলেন সাইকেল চেপে। তবে এর আগেও বাঙালি পর্যটকেরা সাইকেলে চেপে অভিযানে গিয়েছেন। কিন্তু জ্যোতিষ্কের এই অভিযানের সাফল্য আরও একবার বাঙালি পাঠককে চাঁদের পাহাড় উপন্যাস এবং শঙ্করের কথা মনে করিয়ে দিল।
সাইকেল আর ‘অ্যাডভেঞ্চার’- এতেই তাঁর নেশা। সব ধরনের প্রতিকূলতা সামলে স্বপ্নের চাঁদের পাহাড়ে পা রেখেছেন তিনি। প্রথমে করিমপুর থেকে সাইকেলে চেপে চাঁদের পাহাড় বা রোয়েনজোরি মাউন্টেনের বেস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছোন তিনি । তার পর ট্রেকিং করে ওঠেন পর্বত শীর্ষে। সঙ্গে ছিল বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড় উপন্যাস, আর ছোট একটি চিরকুট। যেখানে লেখা ‘ট্রিবিউট টু বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়’।
জ্যোতিষ্ক যখন উগান্ডায় ছিলেন সেখানকার একটি দৃশ্য ভিডিয়োর মাধ্যমে তুলে ধরেন। ওই ভিডিয়োতে জ্যোতিষ্ককে বলতে শোনা যায়, “বিভূতিবাবু, আমি রয়েছি আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য।” বিভূতিভূষণের কল্পনার চাঁদের পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মার্গারিটা পিক, যা রুয়েনজোরি পর্বতমালায় অবস্থিত (এর অপর নাম চাঁদের পাহাড়)। উচ্চতা ৫,১০৯ মিটার (১৬,৭৬৩ ফুট)। এটি আফ্রিকার তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। বাস্তবে কোনও বাঙালির এই প্রথম চাঁদের পাহাড় জয়।
জ্যোতিষ্কের বাবা প্রাক্তন সেনাকর্মী। বাবার পেশার সুবাদে ঘুরেছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্য। তাই ভ্রমণের শখ ছোট থেকেই। জুন মাসে নিজের জমানো টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন চাঁদের পাহাড়ের উদ্দেশে। গন্তব্য ছিল পূর্ব আফ্রিকার মোম্বাসা ‘রেলওয়ে হেড অফিস’। তার পর সেখান থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেন চাঁদের পাহাড় জয়ের।
