কলকাতা- নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল বিধানসভা। বাংলা ও বাঙালির উপর অত্যাচার নিয়ে আলোচনায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়ার্ধে বক্তব্য রাখার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু যা হল তাতে বাংলা ও বাঙালি নিয়ে আলোচনা কার্যত পেছনের সারিতে চলে গিয়ে দুই তরফের মধ্যে পারষ্পরিক আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের মঞ্চে পরিণত হল বিধানসভা।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল হয়ে ওঠে যে ২ ঘন্টায় বিজেপির ৫ বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত মঙ্গলবার ভারতীয় সেনাকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বহিস্কৃত হন বিরোধাী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে বিজেপি বিধায়করা আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বলার কথা ছিল বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের। কিন্তু অগ্নিমিত্রার নাম যখন ডাকা হয় তিনি বিধানসভায় ছিলেন না। এর পর মুখ্যমন্ত্রী বলতে ওঠেন। কিন্তু অগ্নিমত্রা চলে এলে বিজেপি বিধায়করা তাঁকে বলতে দেওয়ার দাবি তোলনে। তখন স্পিকার অগ্নিমিত্রাকে বলতে দিলেও তাঁর সময় কমিয়ে দেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলতে উঠলে বাধা দিতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা।
পরিস্থিতি এমন হয় যে স্পিকার প্রথমে শংকর ঘোষকে সাসপেন্ড করেন। তাই নিয়ে চরম হট্টগোল বিধানসভা অন্দরে। শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে বিধানসভার অন্দরেই চলে বিজেপির স্লোগান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্শালের নেতৃত্বে বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা শঙ্কর ঘোষকে টেনে বার করার চেষ্টা করেন। বিধায়করা তা আটকানোর চেষ্টা করেন।
শঙ্কর ঘোষের পর সাসপেন্ড করা হয় অগ্নিমিত্রা পাল। তারপর মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, বঙ্কিম ঘোষকেও সাসপেন্ড করা হয়।
