কলকাতা- ওলা ইলেকট্রিকের এক কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বেঙ্গালুরুতে। কর্মচারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সংস্থাটির সিইও ভাবিশ আগরওয়াল, সিনিয়র অফিসার সুব্রত কুমার দাস এবং ওলা ইলেকট্রিক কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
৬ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর সুব্রমণিয়াপুরা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNSS)-র নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হলেও, তা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে।
ওলা ইলেকট্রিকের হোমোলোগেশন ইঞ্জিনিয়ার কে অরবিন্দ গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল। তবে অরবিন্দের মৃত্যুর দু’দিন পর তাঁর অ্যাকাউন্টে ১৭.৪৬ লক্ষ টাকা স্থানান্তরিত হওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়ে।
এরপরে অরবিন্দের ঘর থেকে একটি ২৮ পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। এই নোটে অরবিন্দ অভিযোগ করেন যে, সুব্রত কুমার দাস এবং সিইও ভাবিশ আগরওয়াল তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ দিতেন।
ওই সুইসাইড নোটে বেতন ও অন্যান্য বকেয়া অর্থ না দেওয়ার জন্যও, কোম্পানীর ওই শীর্ষ কর্তাদের দায়ী করা হয়েছে। তাঁর জীবন শেষ করার কারণ হিসাবে তিনি এই বিষয়গুলি উল্লেখ করেন। সেই সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে অরবিন্দের পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে, পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করে।
এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় ওলা ইলেকট্রিকের মুখপাত্র গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং অরবিন্দের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কোম্পানির দাবি, অরবিন্দ সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ওলা ইলেকট্রিকের সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু কখনও কোনও অভিযোগ করেননি।
কোম্পানির তরফে দ্রুত মৃতের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তাঁর প্রাপ্য সম্পূর্ণ টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছে। ওলা ইলেকট্রিক জানিয়েছে যে, তারা কর্ণাটক হাইকোর্টে এই এফআইআর রুজু হওয়ার বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়েছে এবং কোম্পানি ও তার কর্মকর্তাদের পক্ষে আদালত সুরক্ষামূলক আদেশ জারি করেছে।
