ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ধিটওয়া, শীতের হাওয়ায় বাধা, বাড়বে তাপমাত্রা

কলকাতা – গোটা দেশের আবহাওয়ায় একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্তের ঘনঘটা। এতদিন ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার নিয়ে চলছিল চর্চা। এবার সেই ঘূর্ণঝড় শক্তি হারাতেই আরেক ঘূর্ণিঝড় খবরের শিরোনামে।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে বৃহস্পতিবারই জন্ম নিয়েছে ঘূর্ণিঝড়় ‘দিটওয়া।’ আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি কোনও প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়ছে না। তবে একধাক্কায় বেশ খানিকটা তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। আগামী কয়েক দিনও পারদ থাকবে ঊর্ধ্বমুখী।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আইএমডি-র পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি উৎপত্তি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জলে শক্তি বাড়াচ্ছে। এরপর শুক্রবার মৌসম ভবন জানিয়েছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় দিটওয়া ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।

গত ছ’ঘণ্টায় তার গতি ছিল ঘণ্টায় আট কিলোমিটার। এই মুহূর্তে তা শ্রীলঙ্কার বাট্টিক্যালোয়া থেকে আট কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম, ভারতের পুদুচেরি থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এবং চেন্নাই থেকে ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই ঘূর্ণিঝড় শ্রীলঙ্কার উপকূল বরাবর আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোবে এবং তামিলনাড়ুর উপকূলের কাছে পৌঁছোবে। ৩০ নভেম্বর, অর্থাৎ রবিবার উত্তর তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছে এই ঘূর্ণিঝ়ড় আছড়ে পড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে তামিলনাড়ুতে। ইতিমধ্যে থানজাভুর, তিরুভারুর, নাগাপট্টিনম এবং ময়িলাদুথুরাই-এই চার জেলায় জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

পাশাপাশি চেন্নাই, তিরুভাল্লুর, কাঞ্চিপুরম, রনিপেট ও চেঙ্গলপট্টু-এই পাঁচ জেলায় জারি হয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২৯ ও ৩০ নভেম্বরের পূর্বাভাস মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত হয়েছে; থানগাচিমাদমে ৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হলেও পুদুচেরি ও কারাইকালে আবহাওয়া ছিল প্রায় শুষ্ক। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরিও। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া আপাতত নিষিদ্ধ।

বাংলার ক্ষেত্রে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে। তারপরের চার দিন আর তাপমাত্রায় তেমন হেরফেরের সম্ভাবনা নেই। আপাতত রাজ্যের সর্বত্র আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। সম্প্রতি কলকাতার তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল। তা সামান্য বেড়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.২ ডিগ্রি কম। এছাড়া, বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি কম। দিনভর শহরের আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। যদিও আবহবিদরা মনে করছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আবহাওয়ার বদল স্পষ্ট হবে। তার আগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *