বিজেপির শপথ গ্রহণ মঞ্চে বিরল সম্মান! শিলিগুড়ির অশীতিপর বিজেপি কর্মী মাখনলালের পা ছুঁয়ে প্রণাম মোদির

কলকাতা- রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিক সম্পর্কের সাক্ষী থাকল শনিবারের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৯ মে, ২০২৬ একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে খোদাই হয়ে রইল।

একদিকে যখন বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিচ্ছেন, তখন অন্য প্রান্তে এক অশীতিপর বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে গোটা দেশের নজর কেড়ে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রাজনৈতিক সৌজন্য আর শ্রদ্ধার এই বিরল দৃশ্য দেখে আপ্লুত জনতা। শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি কর্মী, ৯৭ বছর বয়সী মাখনলাল সরকারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই অনন্য সম্মান আসলে বাংলার মাটিতে আদর্শবাদী রাজনীতির দীর্ঘ লড়াইকেই কুর্নিশ জানানো।

শিলিগুড়ির মাখনলাল সরকার নামের এই বৃদ্ধের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জনসঙ্ঘ এবং আজকের ভারতীয় জনতা পার্টির দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ বুঝিয়ে দিল, দল আজ ক্ষমতায় এলেও সে তার আদি লড়াকু সৈনিকদের ভোলেনি।

শিলিগুড়ি পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যনগর এলাকার এক পরিচিত মুখ মাখনলাল বাবু। রাজনীতির আঙিনায় তিনি কেবল একজন প্রবীণ কর্মী নন, বরং তিনি একটি জীবন্ত ইতিহাস।

প্রথম জীবনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর একনিষ্ঠ প্রচারক হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে জনসঙ্ঘ এবং বিজেপির চরম দুর্দিনেও উত্তরবঙ্গে দলের ভিত শক্ত করতে একা লড়ে গিয়েছেন তিনি। অটল বিহারী বাজপেয়ি থেকে লালকৃষ্ণ আদবানি—বিজেপির প্রথম সারির প্রায় সব শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেই তাঁর ছিল ব্যক্তিগত সখ্যতা।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মাখনলাল সরকারের পরিচয় দিতে গিয়ে এক রোমাঞ্চকর তথ্যের অবতারণা করেন। তিনি জানান, মাখনলাল সরকার ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী। ১৯৫২ সালে ‘এক দেশ মে দো নিশান, দো বিধান নেহি চলেগা’ স্লোগান তুলে কাশ্মীরে তেরঙা পতাকা উত্তোলনের যে ঐতিহাসিক অভিযান শুরু হয়েছিল, মাখনলাল বাবু ছিলেন শ্যামাপ্রাসাদবাবুর অন্যতম সঙ্গী।

কাশ্মীরের জেলে যখন রহস্যজনকভাবে শ্যামাপ্রাসাদের মৃত্যু হয়, তখন তাঁর শেষযাত্রার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন এই বৃদ্ধ। সেই আন্দোলনের কারণে তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল কাশ্মীর পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *