কলকাতা- নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি রাজ্যের চারজন নির্বাচনি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল। ভোটের কাজে গাফিলতির অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে নবান্ন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিয়ে একটি ‘কৌশলী’ অবস্থান নিল।
সরাসরি কমিশনের নির্দেশ মানতে অস্বীকার না করলেও, রাজ্য সরকার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে দুজন আধিকারিককে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে একটি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন যে চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল তাঁরা হলেন, বারুইপুর পূর্ব (১৩৭) বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও সহকারী ইআরও তথাগত মণ্ডল, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার ও এআইআরও সুদীপ্ত দাস ।
এছাড়াও, ফর্ম-৬ প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছিল কমিশনের তরফে।
মুখ্যসচিব তাঁর চিঠিতে জানান, এই মুহূর্তে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ (সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত) নেওয়া হচ্ছে না। তবে নবান্ন একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
তিনি দাবি করেন, জেলা ও ব্লক স্তরের আধিকারিকদের একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং অনেক সময় তাঁরা অধীনস্থ কর্মীদের উপর আস্থার ভিত্তিতে কিছু দায়িত্ব দেন। এর ফলে, বিস্তারিত তদন্তের আগে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে, যা সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নবান্ন আপাতত তমলুক ব্লকের পিএএও এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্বের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।
