কলকাতা- রান্নার গ্যাস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবিষয়ে নতুন নির্দেশ জারি করতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে আধার যাচাই না করলে আর গ্যাসের ভর্তুকি মিলবে না। এতদিন এই প্রক্রিয়া ঐচ্ছিক থাকলেও, এবার তা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে এই নিয়ম কার্যকর হবে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত গ্রাহকদের জন্য। তবে কেন্দ্রের ইঙ্গিত স্পষ্ট, পরবর্তীতে দেশের সমস্ত এলপিজি গ্রাহকের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভর্তুকি যাতে প্রকৃত গ্রাহকের হাতেই পৌঁছায় এবং কোনওভাবেই প্রতারণা বা জালিয়াতি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই নতুন এই পদক্ষেপ। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, প্রতি অর্থবর্ষে অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে অন্তত একবার আধার যাচাই করানো বাধ্যতামূলক করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ গ্রাহক রয়েছেন। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাঁদের বড়সড় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। দেশের ক্ষেত্রেও কোটি কোটি গ্রাহককে এবার বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে যাচাই করাতে হবে।
বর্তমানে উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডার পিছু ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। চলতি অর্থবর্ষে কেন্দ্র জানিয়েছে, বছরে সর্বাধিক ন’টি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্যই এই ভরতুকি দেওয়া হবে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অষ্টম ও নবম সিলিন্ডারের ভরতুকি পেতে আধার যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক হবে। যারা ৫ কেজির সিলিন্ডার নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ২১তম সিলিন্ডার থেকে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট অর্থবর্ষে বায়োমেট্রিক যাচাই না করালে অষ্টম সিলিন্ডারের পর থেকে ভরতুকি অ্যাকাউন্টে আর জমা পড়বে না। এমনকি ৩১ মার্চের মধ্যে যাচাই না করালে ওই বছরের বকেয়া ভরতুকিও আর পাওয়া যাবে না।
তবে সিলিন্ডার বুকিং বা সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করেছে মন্ত্রক। জানানো হয়েছে, বুকিং ও ডেলিভারি স্বাভাবিক থাকবে, কিন্তু ভর্তুকির টাকা আটকে যাবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই বায়োমেট্রিক যাচাই করিয়েছেন, তাঁরাও প্রতি অর্থবর্ষে পুনরায় সেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন।
পুরোনো যাচাই পদ্ধতিগুলিই এইবারও চালু থাকবে। গ্রাহক চাইলে নিজের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে অথবা সিলিন্ডার ডেলিভারি কর্মীর মাধ্যমেও আধার যাচাই করতে পারবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও করা যাবে ‘ফেস অথেন্টিকেশন’। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এই প্রক্রিয়া করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তেল সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত যাচাইকরণ অভিযান চালাতে।
