রেড়ির বীজ দিয়ে বিষ তৈরি করে গণহত্যার ছক! কী পরিকল্পনা ছিল গুজরাটে ধৃত জঙ্গির?

কলকাতা- গত সপ্তাহেই অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন আইসিসের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড বা এটিএস।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে ছিলেন এক হায়দরাবাদি চিকিৎসক আহমেদ মহিউদ্দিন সৈয়দ। আর এই অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘রিসিন’ তৈরির উপাদান। আর তা দিয়েই অভিযুক্ত দিল্লি, আহমেদাবাদের মতো বড় শহরগুলির খাবারের বাজারে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলেই অনুমান তদন্তকারীদের।

৭ নভেম্বর অভিযুক্ত চিকিৎসক আহমেদ মহিউদ্দিন সৈয়দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গুজরাট পুলিশের এটিএস সূত্রে খবর, এই বিষাক্ত রাসায়নিক ‘রিসিন’ তৈরির জন্য ক্যাস্টর–বিন ম্যাশ সংগ্রহ করছিলেন। মূলত রিসিন হল ক্যাস্টর বা রেড়ির বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পর অবশিষ্ট থাকা উপাদান। আর এটিকেই জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ওই চিকিৎসক।

এমনকী গত ছ’মাস ধরে দিল্লির আজাদপুর মান্ডি, এশিয়ার বৃহত্তম পাইকারি ফল ও সবজি বাজার, আহমেদাবাদের নারোদা ফলের বাজার এবং লখনউতে আরএসএস অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিলেন তিনি। মূলত জনবহুল স্থানগুলিকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।

গুজরাট এটিসের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একটি বড় সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য, আহমেদ মহিউদ্দিন সৈয়দ ‘রাইসিন’ (রিসিন) নামে একটি অত্যন্ত মারাত্মক বিষ তৈরি করছিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় গবেষণা শুরু করে দিয়েছিলেন। সেজন্য সরঞ্জাম, কাঁচামাল সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণও শুরু করেছিলেন।”

এই রিসিন একবার শরীরে ঢুকলে শ্বাসযন্ত্র, পাকস্থলী, লিভার, কিডনিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফুসফুসে জল জমতে পারে, রক্তচাপ নেমে যেতে পারে এবং চিকিৎসা না হলে মৃত্যু ঘটতে পারে। এই বিষের কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষেধকও নেই। তাই কোনওভাবে রিসিনের সংস্পর্শ ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব শরীর থেকে তা দূর করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *