জীবনকৃষ্ণর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগের তালিকা জমা দিল ইডি, স্ত্রী ও পিসিকেও জেরা

কলকাতা- শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। তাঁর স্ত্রী টগরী সাহা এবং পিসি মায়ারানি সাহাকে জিজ্ঞাসবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

একদিকে জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার, অন্যদিকে স্ত্রী ও পিসিকে জেরার পর আদালতে বেশকিছু নথি জমা দিয়েছে ইডি। সেই নথি অনুযায়ী একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে বিধায়ক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

প্রথম অভিযোগ জীবনের ফোন নিয়ে। তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রমাণ লোপাটের জন্যই নর্দমায় মোবাইল ফোন ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও দীর্ঘ তল্লাশির পর ফোনটি উদ্ধার হয়।

ইডির দ্বিতীয় অভিযোগ, জীবনকৃষ্ণ এবং তাঁর স্ত্রী দু’জনেই সরকারি কর্মচারী। তাঁদের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা জমা থাকাটা অস্বাভাবিক। অথচ জীবনের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বহুবার মোটা টাকা জমা পড়ার প্রমাণ রয়েছে।

চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক জমি, বাড়ি কিনেছেন বলে নথিতে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আবার টগরী দেবি স্বীকার করেছেন, স্বামীই তাঁর অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা করেছিলেন।

ইডির আরও দাবি, একাধিকবার তাঁকে নথি জমা দিতে ডাকা হলেও জীবনকৃষ্ণ হাজিরা দেননি। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তিনি ইডির কাছে স্বীকার করেছিলেন যে ৫ অগাস্ট হাজির হবেন, কিন্তু আর আসেননি।

আজ সকালে জীবনের পিসি তথা কাউন্সিলর মায়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার আগে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি জোর গলায় বলেন, ‘আমার স্বামীর ৪০ বছরের ব্যবসা। ফলে দুর্নীতির টাকার কোনও প্রশ্নই নেই। আমার বিপুল সম্পত্তিও নেই। অল্প কিছু জায়গা জমি আছে। জীবনের বাবা দাদা পুরোপুরি মিথ্যে বলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *