কলকাতা- আজ নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক বিরাট সাফল্যের দিন। ৭৬ জন জওয়ানকে হত্যা করা মাওবাদী মাডভি হিদমাকে খতম করা হয়েছে। কিন্তু এই অপারেশনটি কীভাবে সফল হলো?
প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ধরে মাওবাদী নেতার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পরে নিরাপত্তা বাহিনী অপারেশন কার্যকর করার জন্য একটি ছোট দল গঠন করে। যাতে কোনওরকম পালাতে না পারে মাওবাদী নেতা, সেজন্য পুরো এলাকা ঘিরে ফেরা হয়েছিল কৌশলগতভাবে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রাত ২ টোর দিকে নিরাপত্তা বাহিনী অপারেশন শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা দীর্ঘ এনকাউন্টারে হিদমাকে নিকেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেহাউন্ডের সহায়তা নিয়েছিল।
মাওবাদী নেতার প্রাক্তন ঘনিষ্ঠই তার বিষয়ে তথ্য দিয়েছিল। যে গত অক্টোবরে আত্মসমর্পণ করেছিল। জানিয়েছিল যে চলতি বছর গোয়েন্দা বাহিনীর একটা বড় অপারেশনের সময় বেঁচে যাওয়ার পরে প্রায় ২৫০ জন আস্থাভাজন ক্যাডারকে নিয়ে তেলাঙ্গানা ঢুকে পড়েছে হিদমা।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের ডিজি হরিশ কুমার গুপ্তা বলেন, আজ সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। গোলাগুলিতে একজন শীর্ষ মাওবাদী নেতা সহ ছয় মাওবাদী নিহত হয়েছেন। বর্তমানে একটি বিশাল চিরুনি অভিযান চলছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের সুকমায় জন্মগ্রহণ করে হিদমা। পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির একটি ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দিত সে। সিপিআই মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিল হিদমা। কেন্দ্রীয় কমিটির বাস্তার অঞ্চলের একমাত্র উপজাতি সদস্য ছিল হিদমা। তার স্ত্রী রাজে ওরফে রাজাক্কাও এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হিদমা ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ায় হামলায় অন্যতম বড় ভূমিকা পালন করেছিল। সেই হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে ঝিরাম ঘাটিতে হামলাতেও বড় ভূমিকা ছিল হিদমার।
শীর্ষ কংগ্রেস নেতা সহ ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন এই হামলায়। এরপর ২০২১ সালে সুকমা-বিজাপুরে হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হিদমার। সেই হামলায় ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই হিদমাকে এনকাউন্টারে খতম করে দেওয়ায় মাওবাদীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকশো মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে।
