কলকাতা – শুনানি কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন। সবার হাতে নথিপত্র, চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। এমন সময় আচমকাই লাইনের মাঝখানে উদয় হলেন এক যুবক। পরনে বিয়ের পোশাক। বরের সাজ!
সঙ্গে আরও কয়েকজন, তাঁরা বরযাত্রী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সন্মতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়লেন উপস্থিত সকলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্মতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা নয়ন শেখের বিয়ের দিন ধার্য ছিল ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার। বাড়িতে যখন বিয়ের সানাই বাজছে, আত্মীয়-স্বজনে ঘর ভরপুর, তখনই নয়নের হাতে এসে পৌঁছায় এসআইআর শুনানির সরকারি নোটিস।
নোটিসে সাফ জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ৩০ জানুয়ারি অর্থাৎ বিয়ের দিনই তাঁকে শুনানিকেন্দ্রে হাজির হতে হবে। নিজের আইনি অধিকার ও নাগরিক দায়িত্ব রক্ষায় প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত কর্তব্যে অটল থাকেন নয়ন। তিনি ঠিক করেন, বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা মিটিয়ে আসবেন।
এর পর প্রশাসনিক তৎপরতায় নয়নের নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। সরকারি কাজ মিটিয়ে হাসি মুখে বিয়ের গাড়িতে চড়ে বরযাত্রীদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
