কলকাতা- ক্যানিং পূর্ব আসনে আইএসএফের প্রার্থী হিসেবে আরাবুল ইসলামের নাম ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাম-আইএসএফ জোটের অন্দরমহল।
তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে নেতা আরাবুলকে বগলদাবা করে লড়াই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
পাল্টা দিয়ে নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট করে দিলেন, দল কাকে প্রার্থী করবে তা সম্পূর্ণ তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে অন্য কোনও দলের শাসানি বরদাস্ত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অত্যন্ত কড়া ভাষায় আরাবুল ইসলামের বিরোধিতা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন এই আরাবুল।
সেলিম বলেন, ‘‘যাঁর হাতে আমাদের কর্মীদের রক্ত লেগে আছে, তাঁকে পাশে নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।’’
আইএসএফের নিচুতলার কর্মীদের প্রতি সেলিমের আহ্বান, তাঁরা যেন নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন।
সেলিমের এই আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পালটা সরব হন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সাফ জানান, ‘‘আইএসএফ কাকে প্রার্থী করবে সেটা দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমরা কোনও দলের লেজুড়বৃত্তি করতে পারি না। আমরা লড়াইয়ের ময়দানে আছি এবং আমাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’’
নওশাদের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, বামেদের আপত্তি সত্ত্বেও আরাবুলকে সরাচ্ছে না আইএসএফ।
বেশ কিছুদিন ধরেই বেশ কিছু আসন নিয়ে বাম ও আইএসএফের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। আরাবুল ইস্যু সেই তিক্ততাকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্যানিং পূর্বের এই সংঘাত যদি না মেটে, তবে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য আসনেও জোটের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ভাঙড় ও ক্যানিং এলাকায় বাম ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
