কলকাতা- রথের দিন এগিয়ে আসতেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। সেজে উঠছে রথ। আয়োজন গড়াচ্ছে চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে। আর এবার দিঘায় সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে বাড়তে থাকা হোটেল ও টোটোর ভাড়া। ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা যেতে টোটো আগে মাথাপিছু ২০ টাকা করে নিত। সেই ভাড়াই পাঁচগুণ বেড়ে এখন মাথাপিছু হয়েছে ১০০ টাকা। দিঘার হোটেল ব্যবসা বরাবর রমরমাই ছিল। সমুদ্র থেকে দূরে গড়পড়তা হোটেলের নন-এসি রুমের এক রাতের ভাড়া এখন ২০০০ টাকা। আগে এই রুমই মিলত ৫০০-৬০০ টাকায়। এসি রুম মিলত ১২০০-১৫০০ টাকায়। এসি রুমের জন্য এখন দিতে হচ্ছে ৪০০০-৪৫০০টাকা।
রাস্তার পাশে ঝুপড়ি দোকানেও খাবার দাম বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ করেছে দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিরক্ত পর্যটকদের অভিযোগের কথা মেনে নিয়েই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁদের ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত অভিযোগ কোনও পর্যটক জানালেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবেন। তাঁর কথায়, “আমরা হোটেল মালিকদের নিয়ে বসেছিলাম। পর্যটকদের অভিযোগ ধরে ধরে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এরপরও পর্যটকরা আমাদের অভিযোগ জানালে বা সোশাল মিডিয়ায় সংগঠনের পেজে অভিযোগ জানালেও আমরা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
জগন্নাথ মন্দিরের ৭ নম্বর গেট দিয়ে তিনটি রথ বেরোবে। রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত থাকার কথা ৫০ জনের বেশি বিদেশি ভক্তের। কারা কোন রথ টানবে, তাঁদের নামের তালিকাও তৈরি হয়েছে। পুণ্যার্থী-পর্যটকদের সকলেই যাতে রথের রশি ছুঁতে পারেন, সেই লক্ষ্যে একেবারে পুরনো মন্দির পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে থাকবে রথের রশি। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রতিদিন ১ লক্ষ দর্শনার্থী আসছেন। এখনও পর্যন্ত এসেছেন ৩০ লক্ষ পর্যটক। ৮৫০ হোটেলের মধ্যে ১০০টি প্রিমিয়াম হোটেল আছে দিঘায়। প্রতিদিন প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার করে অতিথি থাকছেন। মন্দিরের আশপাশে ১০০টি দোকান বসার আয়োজন করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, নতুন জগন্নাথ মন্দির থেকে আদি মন্দির পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তায় কিছুদূর অন্তর এলইডি স্ক্রিন লাগানো থাকবে।
