কলকাতা- সে এক সময় ছিল! খেজুর গাছের রস তোলা হত মাটির হাঁড়িতে। তবে এখন সময় বদলেছে। পরম্পরায় ছেদ পড়েছে। এখন মাটির হাঁড়ির বদলে এসেছে প্লাস্টিকের বোতল। এমন বোতলে সংগ্রহ করা খেঁজুর রস আসলে কিন্তু বিষের সমান।
খেঁজুর রস বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পানীয়। শীতকালে গ্রামবাংলায় ভোরবেলা তাজা খেঁজুর রস সংগ্রহ ও পান করার রীতি বহু প্রাচীন। আগে এই রস সংগ্রহের জন্য সাধারণত মাটির হাঁড়ি ব্যবহার করা হত। কিন্তু বর্তমানে অনেক জায়গায় মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর প্লাস্টিকের বোতলে সংগ্রহ করা রস কিন্ু আদতে শরীরে জন্য ক্ষতিকর।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্লাস্টিক থেকে BPA ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক রসে মিশে যেতে পারে রসে। বিশেষ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে এমনটা হতে পারে। সেই সব রাসায়নিক মানবদেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়া প্লাস্টিকের বোতল ভালভাবে পরিষ্কার করা কঠিন। ফলে তাতে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ডায়রিয়া, পেটের অসুখ ও ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।
মাটির হাঁড়ির বিশেষ গুণ হল, এটি ভেতরের তরলকে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখে। ফলে খেঁজুর রস দীর্ঘসময় টাটকা থাকে এবং তার স্বাভাবিক মিষ্টতা বজায় থাকে। অন্যদিকে, প্লাস্টিকের বোতলে রস দ্রুত গরম হয়ে যায়। ফলে রসে টক ধরার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এতে খেঁজুর রসের প্রাকৃতিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।
প্লাস্টিক একটি পরিবেশ দূষণকারী বস্তু। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল সহজে পচে না এবং মাটি ও জল দূষিত করে। পশুপাখি ও জলজ প্রাণীর জন্যও এটি ক্ষতিকর। অপরদিকে মাটির হাঁড়ি পরিবেশবান্ধব, এটি মাটি থেকেই তৈরি হয় এবং ভেঙে গেলে সহজেই মাটিতে মিশে যায়।
সমস্যার শেষ এখানেই নয়। খেঁজুর রস সংগ্রহে মাটির হাঁড়ি ব্যবহার আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ। এই হাঁড়ি তৈরি করেন কুমোররা, যা তাদের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ার ফলে এই ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প ও কুমোরদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
