নিপা ভাইরাসে আতঙ্ক বাংলায়! আক্রান্ত হলে কী কী উপসর্গ থাকছে শরীরে? জেনে নিন

কলকাতা – নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক বাংলায়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রুগীর লক্ষণ, প্রতিকার ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, ফ্রুট ব্যাট বা ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক।

সংক্রমিত বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকা ফল খেলে কিংবা সংক্রমিত শূকরের সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে।

উপসর্গ – তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা: সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও এর তীব্রতা অনেক বেশি হয়। শ্বাসকষ্ট: সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সর্দি, কাশি এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। মানসিক বিভ্রান্তি: আক্রান্ত ব্যক্তি ঝিমুনি অনুভব করতে পারেন এবং অনেক সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন। খিঁচুনি ও এনসেফালাইটিস: পরিস্থিতি জটিল হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যা থেকে খিঁচুনি এবং রোগী কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নিপা ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সচেতনতাই একমাত্র সুরক্ষা।

কাঁচা খেজুরের রস পান করা পুরোপুরি বন্ধ করুন। বাদুড় অনেক সময় রসের হাঁড়িতে মুখ দেয় বা প্রস্রাব করে। কোনো ফল খাওয়ার আগে তা ভালো করে ধুয়ে নিন। যদি কোনো ফলের গায়ে কামড়ের দাগ বা ছিদ্র থাকে, তবে তা ভুলেও খাবেন না। সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। সংক্রমিত এলাকায় চলাচলের সময় বা রোগীর সংস্পর্শে গেলে অবশ্যই মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *