আগুনে ঝলসানো ৮টি দেহ উদ্ধার, মৃত্যপুরী আনন্দপুর! ২৫ জনের কোনও হদিশ নেই

কলকাতা- “আর বাঁচব না…”—ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা পঙ্কজ হালদারের এই আর্তনাদই সম্ভবত ছিল শেষ বার্তা। আনন্দপুরের অদূরে নাজিরাবাদের দুটি বিশালাকার গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। ভয়ঙ্কর ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮টি অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনের উত্তাপ এতটাই তীব্র ছিল যে দেহগুলি সম্পূর্ণ ঝলসে যাওয়ায় এখনও পর্যন্ত তাঁদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সোনারপুর উত্তর বিধানসভা ও নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত এই এলাকায় গত ১১ ঘণ্টা ধরে যেন নরককুণ্ড তৈরি হয়েছে। গুদামের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ, নরম পানীয় এবং খাদ্যসামগ্রী মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামানো হয়েছে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য আনা হয়েছে জেসিবি মেশিন। আগুনের তীব্রতায় পাশের মেস ও বসতবাড়িগুলিও তড়িঘড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় নিখোঁজ ২০ জন কর্মী। স্থানীয় ও নিখোঁজদের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় তাঁরা ভেতরেই আটকে পড়েছিলেন। থানায় ২০ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে গুদামের পেছন দিক থেকে দুটি চেন দেওয়া ব্যাগ বের করে আনা হয়, যাতে একাধিক দেহাংশ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম। প্রশাসনের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আগুন এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ধ্বংসস্তূপ সরলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *