কলকাতা- চলছে ভ্যালেন্টাইন্স উইক। ৭ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে পালন হয় প্রেমের সপ্তাহ।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে। আর আজ, ১৩ ফেব্রুয়ারি চুম্বন দিবস। আজকের দিনে বলিউডের তারকাদেরও কিছু চুম্বনের গল্প বলা যাক।
১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দয়াবন’ ছবিতে বলিউডের নায়িকা মাধুরী দীক্ষিতের চুম্বনের অভিজ্ঞতা দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল। ওই দৃশ্য সেসময়ে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, সেরকম অভিনেত্রীর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
সেই সময় বিনোদ খান্না ইন্ডাস্ট্রিতে সুপারস্টার। অন্যদিকে, মাধুরী নিজের মাটি শক্ত করার চেষ্টা করছেন। ছবির সুপারহিট গান ‘আজ ফির তুমপে পেয়ার আয়া হ্যায়’-র শ্যুটিংয়ের সময়ের একটি ঘটনা মাধুরীকে এতটাই গভীরভাবে আঘাত করেছিল যে তিনি তাঁর পর্দার জীবনে দাড়ি টানার সিদ্ধান্ত নেন।
এক সাক্ষাৎকারে, মাধুরী দীক্ষিত খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছিলেন যে সেই দৃশ্যের শ্যুটিং তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। নায়িকা বলেন, তিনি তখন খুব ছোট ছিলেন এবং পর্দায় দৃশ্যটি এত সাহসী দেখাবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি।
মাধুরী বলেন, “সবই কিছু না কিছু শেখায়। সেই দৃশ্যের পরে আমি এতটাই বিব্রত এবং অস্বস্তিকর বোধ করেছিলাম যে আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমি আর কখনও এমন কিছু করব না।”
চলচ্চিত্র দুনিয়ায় গুঞ্জন রয়েছে, সেই দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের সময় যা ঘটেছিল তা চিত্রনাট্যের অংশ ছিল না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুম্বনের দৃশ্যের সময় বিনোদ খান্না নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
এমনকী তিনি মাধুরীকে অতিরিক্ত সময় ধরে চুম্বন করেন এবং তার ঠোঁট কামড়ে ধরে রক্ত বের করেন। এই অপ্রত্যাশিত আচরণে মাধুরী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সেটে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই ঘটনাটি সেই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমবয়সী অভিনেত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্রের পরিচালক ফিরোজ খানও বহু বছর পরে দৃশ্যটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন যে মাধুরী দীক্ষিতের মতো একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীর সঙ্গে যা হয়েছিল তা ভুল এবং অপ্রয়োজনীয় ছিল। জানা গেছে, মাধুরী ছবিটি মুক্তির আগে বারবার ফিরোজ খানকে দৃশ্যটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এমনকী নির্মাতাদের কাছে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলেন।
