মধ্যযুগে ফিরল আফগানিস্তান! হাড় না ভাঙা পর্যন্ত ‘অত্যাচার’ করা যাবে স্ত্রীদের উপর! গার্হস্থ্য হিংসা বৈধ তালিবানি শাসনে

কলকাতা- আফগানিস্তানে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী অধিকারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় গার্হস্থ্য হিংসা বা স্ত্রীকে মারধরের অপরাধে যে শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নগণ্য এবং বিতর্কিত বলে দাবি উঠেছে নানা মহলে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবান প্রশাসন দাবি করেছিল যে তারা আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

নারীদের সুরক্ষা এবং আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে দেশটি কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বর্তমানে গার্হস্থ্য হিংসা বা স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের বিচার পাওয়া কেবল কঠিনই নয়, বরং শাস্তির বিধানও অত্যন্ত লঘু।

তালিবান প্রশাসনের বর্তমান বিচারিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনো স্বামী তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মাত্র ১৫ দিনের জেল। তবে এই শাস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে এক অদ্ভুত ও অমানবিক শর্ত। অপরাধ প্রমাণিত হলেও শাস্তি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যদি মারধরের ফলে স্ত্রী শারীরিকভাবে ‘জখম’ হন বা তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো ক্ষত সৃষ্টি হয়।

সাধারণ চড়-থাপ্পড় বা শারীরিক লাঞ্ছনা, যা শরীরের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করে না, সেগুলিকে অপরাধের পর্যায়ভুক্ত করতেই অনীহা দেখাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

২০২১ সালের অগাস্টে ক্ষমতা দখলের আগে আফগানিস্তানে নারীদের সুরক্ষার জন্য ‘Elimination of Violence Against Women (EVAW)’ নামক একটি আইন কার্যকর ছিল। তালিবান আসার পর সেই আইনটি বাতিল করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরণের নমনীয় আইন আসলে অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদি কোনো নারী অভিযোগ করতে যান, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে উল্টো ‘বিদ্রোহী’ বা ‘অশালীন’ বলে চিহ্নিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সহিংসতার শিকার নারীকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে উল্টো তাঁকে ‘ঘর থেকে পালানোর’ অভিযোগে কারাবন্দি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *