আবার ভোটের মাঠে মমতা-শুভেন্দুর সরাসরি টক্কর! ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী? তা হলে নন্দীগ্রামে কে?

কলকাতা- ছাব্বিশের ভোটেও কি সরাসরি লড়াই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর? তেমনই সম্ভাবনা উঠে এসেছে। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শুভেন্দুকে দাঁড় করানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের মতে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সবথেকে হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ওজনদার কাউকেই দাঁড় করাতে হবে। আর সেক্ষেত্রে শুভেন্দুর থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী পদ্মশিবিরে নেই বলে মনেই করছে ওই মহল। যদিও আপাতত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আর যদি সেটাই হয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজিই তাঁর বিরুদ্ধেই বিজেপি প্রয়োগ করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন ‘বিজেপি-বিজেপি’ রব উঠেছিল, সেইসময় চমক দিয়ে সবথেকে ‘কঠিন’ আসন নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নিজেই দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। সামান্য ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ‘সুরক্ষিত’ বা ‘সেফ’ আসন থেকে না হলে তিনি যে সবথেকে ‘কঠিন’ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেই বিষয়টি ইতিবাচক বার্তা বয়ে নিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও রাজ্যের মানুষের কাছে। ফলে দিনের শেষে হেরে গেলেও মমতা আসল কাজটা করে দিয়েছিলেন।

এবার ঠিক সেই কৌশলই মমতার বিরুদ্ধে বিজেপি ব্যবহার করতে চায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও ২০২১ সালে মমতা নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করেছিলেন, শুভেন্দুর ক্ষেত্রে সম্ভবত সেরকম হবে না বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুভেন্দু জানিয়েছেন যে তিনি নন্দীগ্রাম থেকেও লড়তে চান। কারণ নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই নিজের কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। সেক্ষেত্রে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও শুভেন্দুকে দাঁড় করানো হতে পারে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শেষপর্যন্ত অবশ্য সেটা হবে কিনা, তা তিন-চারদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। কারণ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যে ভুলটা করেছিল বিজেপি, এবার সেটা করতে চাইছে না। অভিষেকের কেন্দ্র থেকে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পদ্মশিবির এতটাই দেরি করেছিল যে ততদিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এবার তাই বিজেপি প্রথম দফার তালিকায় ভবানীপুরের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *