ভাঙড় পুনরুদ্ধারে বাজি তিনিই! সেই শওকত মোল্লা বিক্ষোভেপ মুখে, অনুগামীদের বিক্ষোভে তপ্ত ক্যানিং

কলকাতা – ২০২১ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফলাফল হয়েছিল ৩০-১। জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে একটি বাদে সবক’টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

একমাত্র ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছিল শাসক দলের। আইএসএফ প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমেই রাজ্যের এই একটি মাত্র আসনে বাজিমাত করেছিল।

সেই ভাঙড় কেন্দ্রে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের তরফে কাকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। কয়েকদিন আগে ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করায় যাবতীয় জল্পনা আরও জোরদার হয়।

ভাঙড় পুনুরুদ্ধারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রাখলেন ক্যানিং পূর্বের বর্তমান বিধায়ক শওকত মোল্লার উপর। তার পরই তাঁর অনুগামীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই বিক্ষোভ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের নেতাও।

ভাঙড়ের বদলে ক্যানিং পূর্ব থেকেই প্রার্থী করতে হবে শওকত মোল্লাকে। এই দাবিতে মঙ্গলবার জীবনতলায় বিধায়কের কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় তাঁর অনুগামীদের।

মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার সকাল থেকেই আবার শওকত মোল্লার বাড়ির সামনে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। শওকতকেই ওই এলাকায় প্রার্থী করতে হবে স্লোগানিং চলে।

এদিকে, ২০২৬-এর নির্বাচনে ক্যানিং পূর্বে বাহারুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল হাইকমান্ড। কিন্তু শওকত অনুগামীদের দাবি, বাহারুল ক্যানিংয়ে বহিরাগত। তাঁর বাড়ি ভাঙড়ে। তাই এখানে ফিরিয়ে আনতে হবে শওকতকেই।

ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার দীর্ঘদিনের বিধায়ক শওকত মোল্লা। ওই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবেও তিনি পরিচিত। তবে দল তাঁকে বেশ কিছুদিন ধরে ভাঙড়ের দায়িত্বও দিয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে ভাঙড়েও তাঁর প্রভাব রয়েছে। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, ক্যানিং পূর্ব নয়, এবার শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙড় থেকে। আর তারপরই ক্যানিং এলাকায় ক্ষোভ ছড়াতে থাকে।

আসন বদলে তাঁর মনে কি আক্ষেপ আছে? সরাসরি উত্তর কিন্তু দিতে দেখা গেল না শওকত মোল্লাকে। শুধু বললেন, ‘দাদার সঙ্গে কথা বলে যা বলার বলব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *