কলকাতা- ভোটের মুখেই কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল।
নির্বাচন কমিশন এই খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করছে, ঠিক তখনই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে বিস্ফোরক পোস্ট করলেন কবি।
শ্রীজাত জানালেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবরটি ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি। কবির এই দাবির পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এদিন সকালেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং এটি একটি রটনা মাত্র।
কিন্তু এই বিবৃতির কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রীজাত পালটা পোস্ট করে লেখেন, “আমার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটা ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি। আপাতত এটুকুই। বাকি কথা পরে হবে।”
বলে রাখা ভালো, বছর কয়েক আগে শ্রীজাতের লেখা ‘অভিশাপ’ কবিতাটি নিয়েই নাকি জোর বিতর্ক! যার জেরে এর আগে ফেসবুক থেকে তাঁর কবিতা তুলে নেওয়া, এমনকী কবিকে প্রাণে মারার হুমকি থেকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভ, এফআইআর – বাদ যায়নি কিছুই! এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ধর্মীয় ভাবাবাগে আঘাতের অভিযোগে কৃষ্ণনগর আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল শ্রীজাতর বিরুদ্ধে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, ভোটের আগে বকেয়া থাকা সমস্ত অপরাধমূলক মামলার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার যে নির্দেশ থাকে, সেই সূত্রেই হয়তো এই পুরানো পরোয়ানা প্রকাশ্যে এসেছে।
এদিকে, শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ‘ভুয়ো’ খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। বুধবার জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘সকাল থেকে ফোন আর মেসেজে পাগল হয়ে যাচ্ছি। শ্রীজাতকে নাকি কেউ ফোন করে বলেছে, আপনার বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে, আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওঁকে ফোন করলাম। ব্যাপারটা কী? এসব কী হচ্ছে? পুলিশ তো এখন আমার হাতে নেই। আমাকে চেনেই না। বিজেপিকে চেনে এখন। আমি অ্যালার্ট করে বলছি, পরে কিন্তু এখানেই আপনাদের কাজ করতে হবে।” সব মিলিয়ে নির্বাচনের প্রাক্কালে কবির বিরুদ্ধে এই আইনি তৎপরতা কি নিছকই প্রশাসনিক পদ্ধতি, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে— তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল।
