কলকাতা- ভোটার তালিকা সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ আবেদনের চূড়ান্ত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের ‘অভ্রান্ত প্রমাণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এও জানিয়েছে যে, ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির আবেদনপত্র ‘ফর্ম ৬’ (Form 6)-এর তথ্য যাচাই করার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তোলেন, “শুধুমাত্র রেশন পাওয়ার জন্য আধার দেওয়া হয়েছে বলেই কি একজন ব্যক্তিকে ভোটারও করে দিতে হবে? ধরুন কেউ প্রতিবেশী দেশের লোক এবং এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, তাকে কি ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে?”
আদালত এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে যে নির্বাচন কমিশনকে ‘ডাকঘরের’ মতো কাজ করতে হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিটি ‘ফর্ম ৬’ জমা দিলেই তা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে কমিশনের এই পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সওয়ালকারী আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দেন যে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া সাধারণ ভোটারদের উপর একটি অসাংবিধানিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। তাঁদের অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন এবং তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
বেঞ্চ-এর পর্যবেক্ষণ, এর আগে এমন সংশোধন হয়নি, শুধুমাত্র এই যুক্তিতে কমিশনের এই প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষমতাকে দুর্বল করা যায় না। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আগে যথাযথ নোটিশ দিতে হবে।
এছাড়াও আদালত তামিলনাড়ু, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গের ‘এসআইআর’ প্রক্তিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনগুলির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও ধার্য করেছে।
তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদনগুলির জবাব দিতে হবে। এরপর দুই দিনের মধ্যে আবেদনকারীরা তার প্রত্যুত্তর দেবেন এবং ৪ ডিসেম্বর শুনানি হবে। কেরলের ক্ষেত্রে ২ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হবে, নির্বাচন কমিশনের জবাব ১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে।
অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গে কয়েকজন বুথ লেভেল অফিসারের (Booth Level Officer-BLO) আত্মহত্যার অভিযোগ ওঠার ঘটনা জড়িত মামলাগুলির শুনানি হবে ৯ ডিসেম্বর।
