শাঁখা-পলা যাঁরা পরেন না তাঁরা কি স্বামীর মঙ্গল চান না? মধুবনীর পোস্ট ঘিরে আবার বিতর্ক, উঠছে প্রশ্ন

কলকাতা- কয়েকদিন আগে চাকুরিজীবী মায়েদের নিয়ে মন্তব্য করার পর এবার মহিলাদের শাঁখা-পলা পরা নিয়ে মন্তব্য করলেন মধুবনী গোস্বামী।

পোস্ট করার পর থেকেই তাঁকে ফের কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। এত সহজে মানুষের জীবনকে বিচার করা কি ঠিক? সেই প্রশ্ন আবার উঠছে মধুবনীর পোস্টকে নিয়ে।

মোটা শাঁখা-পলার ডিজাইন নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। আবার বিবাহিত মহিলাদের স্বামীর মঙ্গলের জন্য শাঁখা-পলা পরা উচিত, কারণ যাদের স্বামী নেই তাঁরা পরতে পারেন না- এমন উদ্ভট মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি লেখেন, ‘মোটা মোটা শাঁখা পলা পরার চল আমি নিয়ে এসেছি, বললেই চলে। ২০১৬-য় যখন বিয়ে হয়, তখন মোটা শাঁখা পরেই বিয়ে করেছিলাম। তারপর দেখেছিলাম, অনেকেই মোটা শাঁখা পরছে। দেখে খুব ভাল লেগেছিল। যাই হোক, শাঁখা-পলা পরাই যেখানে উঠে গিয়েছিল, সেখানে ‘স্টাইল’ করার জন্য হলেও, লোকে তো পরছে অন্তত। এরপর, অনেক পরে যখন মোটা শাঁখার সঙ্গে মোটা পলাও পরা শুরু করলাম, তখন লোকে সেটাও ফলো করল, আমি সব রকম আউটফিটের সঙ্গেই শাঁখা পলা পরি, আমার এখনকার এই সোনালি চুলের সঙ্গেও পরছি! অনেকে আমায় জিজ্ঞেস করেন, আমি কেন শাঁখা পলা পরি? আমি পরি আমার স্বামীর মঙ্গল কামনায়, স্বামীর শারীরিক এবং মানসিক সুস্বাস্থের কামনায়। এটা আমার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আমি পরি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি মনে করি, শাঁখা পলা, সিঁদুর এগুলো এমন আভূষণ, যা চাইলেই পরা যায় না। এর জন্য, অবশ্যই প্রাথমিকভাবে বিয়ে হওয়াটা ম্যান্ডেটরি, এবং স্বামীর দেহ থাকাটাও অত্যাবশ্যক। যারা প্রফেশনের কারণে পরতে পারেন না, তাদেরটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য, কিন্তু ‘এমনি পরি না’, বা ‘দেখতে গাঁইয়া লাগে’ ভেবে যারা পরেন না, তাদের অন্তত এটুকু মাথায় রাখা উচিত, যে এমন অনেকে আছেন, যারা এগুলো পরার সুযোগ ই পান না। আমি কাউকে আমার কথা মেনে চলতে বলছিনা। আমি তেমনটা এক্সপেক্ট ও করি না। আমি শুধু আমার পার্সপেক্টিভটা সবার সাথে শেয়ার করলাম।’

যাঁরা শাঁখা-পলা পরেন না তাঁরা কি স্বামীর মঙ্গল চান না? নিজের সিদ্ধান্তে যারা শাঁখা-পলা পরেন না, তাঁদেরকে নিয়ে এমন মন্তব্য কীভাবে করতে পারেন মধুবনী? প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *