কলকাতা – ফের কাজ করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ এক বিএলও। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। পরিবারের লোকের অভিযোগ, বিএলও-র কাজের চাপ সহ্য না করতে পেরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৩ নম্বর পার্টের বিএলও অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ডোমজুড়ের মাকড়দহ রাধারানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, গত বছর জুলাই মাসে পায়ের বুড়ো আঙুলে সংক্রমণের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। গোটা শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং কাজে যোগ দেন।
এই বছর মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাকে যখন বিএলও র দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন তিনি তার যাবতীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র কমিশনে জমা দেয় এবং বিএলও র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান। এরপর থেকে তিনি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
তার স্ত্রীর অভিযোগ অসুস্থতা সত্ত্বেও তাকে বিএলও র দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত কয়েকদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা কাজ এবং বাড়ি বাড়ি হেঁটে যাওয়ার ফলে তার পায়ের সংক্রমণ বেড়ে যায়। গতকাল তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি নার্সিংহোমে ভর্তির পরামর্শ দেন।
এর পর গতকাল থেকে কাঁকুড়গাছির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্ত্রী মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন তিনি ভালোভাবে হাঁটতে পারতেন না। গাড়ি ছাড়া কোথাও যেতে পারতেন না। বিএলও র কাজ না করতে পারলে ভাল হ।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এর আগে বেশ কয়েকজন বিএলও কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যা করেন। তিনি অসুস্থ জানা সত্ত্বেও তাকে জোর করে বিএলও র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল অল্প সময়ে এসআইআর এর কাজ শেষ করা। এসব হচ্ছে বিজেপির নির্দেশে। এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তার চিকিৎসায় কোন সহায়তা করেনি। তার পরিবারের লোক আবেদন করলে দল হিসেবে তৃণমূল তার পাশে আছে।
