১০ মাসের আলিনের অঙ্গে নবজীবন পেল ৫টি শিশু! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় আলোর পথযাত্রীকে

কলকাতা- মৃত্যুর নিস্তব্ধতা শেষ পর্যন্ত জীবনের জয়গান গেয়ে উঠল! শোকাতুর হৃদয়েও এক অদ্ভুত প্রশান্তি নামল।

জীবন আর মৃত্যুর সেই চিরন্তন দ্বন্দ্বে কেরলের ১০ মাসের শিশু আলিন শেরিন আব্রাহাম প্রমাণ করে দিয়ে গেল, কিছু মৃত্যু কেবল নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং নতুন করে জেগে উঠতে সাহায্য করে।

কেরলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা হিসেবে আলিন আজ কেবল একটি নাম নয়, এক অনন্য মানবিক মহাকাব্যের নাম।

রবিবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যখন তাকে শেষ বিদায় জানানো হলো, তখন গোটা দেশের চোখ ভিজেছে এক মিশ্র অনুভূতিতে—একদিকে ছিল সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে ছিল ত্যাগের গর্ব।

পাঠানামথিট্টার একটি গির্জার সামনে যখন পুলিশের বিশেষ বাহিনী আলিনকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করছিল, তখন উপস্থিত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে সেই স্পন্দন অনুভূত হয়েছে, যা আলিন মৃত্যুর আগে বিলিয়ে দিয়ে গেছে আরও পাঁচটি শিশুর মধ্যে।

৫ ফেব্রুয়ারি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিল এই খুদে। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পর ১২ ফেব্রুয়ারি যখন তার ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করা হয়, তখন অকল্পনীয় যন্ত্রণার মধ্যেও এক কঠিন কিন্তু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন তার বাবা-মা—অরুণ আব্রাহাম ও শেরিন অ্যান জন।

সন্তানের নিথর দেহ থেকে অন্য শিশুদের জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার সেই সাহসী পদক্ষেপ।

আলিনের দান করা যকৃত, দুটি কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের ভালভ আজ পাঁচজন মরণাপন্ন শিশুকে নতুন জীবনরেখা উপহার দিয়েছে। কোচি থেকে তিরুবনন্তপুরম পর্যন্ত ২৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’।

রাতের বেলা হেলিকপ্টার চলাচলের অনুমতি না থাকায় সড়কপথেই অ্যাম্বুলেন্স ছুটিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে সেই দূরত্ব অতিক্রম করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *