কলকাতা- ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারকা কোচ তিনি। অমল মজুমদার। এই নাম উঠলে অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। অনেকেই বলেন, ভুল সময়ে জন্ম নেওয়া ক্রিকেটারদের তালিকা করলে প্রথমদিকে থাকবে অমলের নাম।
ঘরোয়া ক্রিকেটে কিংবদন্তি হলেও সচিন-সৌরভ-রাহুল-লক্ষ্মণের আমলে জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বাদ পাননি অমল মজুমদার। আর সেই অমলের হাত ধরেই এবার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারতের মহিলা ব্রিগেড।
তাঁর জন্ম ১৯ নভেম্বর, ১৯৭৪ সালে মুম্বইয়ে। শৈশবে অমল মজুমদার ক্রিকেটের হাতেখড়ি নেন কিংবদন্তি কোচ রমাকান্ত আচরেকরের কাছে, যাঁর হাত ধরে বিশ্ব চিনেছিল সচিন তেন্ডুলকরকে। তাঁর পেশাদার কেরিয়ার শুরু হয় এক বিশাল চমক দিয়ে, রঞ্জি ট্রফিতে।
অভিষেক ম্যাচেই তিনি হাঁকান ২৬০ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়া ইনিংস। ঘরোয়া ক্রিকেটে ১১ হাজারের বেশি রান করা অমল মজুমদার কখনও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি। তার কারণ, ভারতের মিডল অর্ডারে ছিলো তখন রাহুল দ্রাবিড়-ভিভিএক্স লক্ষ্মণের মতো ক্রিকেটাররা। যাদের ভিড়ে কখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে পারেননি অমল।
অমল মজুমদারের ক্যারিয়ারে ১৭১টি প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচ, ১১,১৬৭ রান এবং ৩০টি সেঞ্চুরি রয়েছে। তবুও তিনি কখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি।
২০১৪ সালে অবসর নেওয়ার পর অমল কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি প্রথমে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর তাঁর অভিজ্ঞতা বাড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে-দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ব্যাটিং কনসালট্যান্ট এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং কোচ হিসেবে তিনি কাজ করেন।
দীর্ঘ ১০ মাস কোচের পদ শূন্য থাকার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিসিসিআই অমল মজুমদারকে ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করে। যদিও আন্তর্জাতিক খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতে কিছুটা বিতর্ক ছিল, তবে তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্য এবং কোচিং-এর অভিজ্ঞতার দৌলতে দ্রুতই তিনি খেলোয়াড় ও ক্রিকেট মহলের মন জয় করে নেয়। তাঁর কোচিংয়ে ২০২৫ সালের প্রথম আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ জিতল ভারত।
