কলকাতা – প্রয়াত জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখার্জি। পাঠকমহলে যিনি সমাদৃত ছিলেন শংকর নামেই। বয়স হয়েছিল ৯৩।
গত বেশ কিছুদিন ধরেই বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ‘চৌরঙ্গী’র লেখক। শুক্রবার দুপুরে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ফেললেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই লেখক।
‘চৌরঙ্গী’র মতো কালজয়ী সাহিত্য সৃষ্টি যাঁর কলম থেকে, সেই মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যজীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। অল্প বয়সেই লেখা কত অজানারে তাঁকে পাঠকমহলে বিপুল পরিচিতি এনে দেয়।
শংকরের একাধিক উপন্যাস বড় পর্দাতেও সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত হয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর সীমাবদ্ধ ও জন অরণ্য উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এছাড়া চৌরঙ্গী উপন্যাস থেকেও তৈরি হয় জনপ্রিয় সিনেমা, যেখানে মুখ্য চরিত্র স্যাটা বোসের ভূমিকায় অভিনয় করেন মহানায়ক উত্তম কুমার।
জনপ্রিয়তার নিরিখে চৌরঙ্গী এক অনন্য মাইলফলক—২০১২ সাল পর্যন্ত উপন্যাসটির ১১১তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যে বিরল কৃতিত্ব।
সত্তরের দশকের অশান্ত কলকাতাকে কেন্দ্র করে লেখা স্থানীয় সংবাদ এবং সুবর্ণ সুযোগ—এই দুই উপন্যাস-সহ তিনটি রচনা নিয়ে আগে প্রকাশিত হয় জন্মভূমি উপন্যাস-সংগ্রহ।
শংকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল।
‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘জনঅরণ্য’—তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ অমূল্য সম্পদ।
