কলকাতা- বাংলাদেশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি (সত্যজিৎ রায়ের পারিবারিক ভিটে) গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়মনসিংয়ে বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিকের যে ভিটেবাড়ি ছিল, সেটা রায় পরিবারের ঐতিহ্য বহন করত।
সেই ঐতিহাসিক বাড়ি ভেঙে নয়া শিশু অ্যাকাডেমি ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসন। যা নিয়ে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
যে বাড়িটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তা ময়মনসিংয়ের হরিকিশোর রায়চৌধুরী রোডে অবস্থিত। উপেন্দ্রকিশোরের বয়স যখন পাঁচ, তখন তাঁকে দত্তক নিয়েছিলেন জমিদার হরিকিশোর। সেই সময় সাহিত্যিকের নাম উপেন্দ্রকিশোর ছিল না। তাঁর নাম ছিল কামদারঞ্জন রায়। তবে দত্তক নেওয়ার পরে নাম পালটে উপেন্দ্রকিশোর রেখেছিলেন হরিকিশোর।
বাড়িটি তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। দেশভাগের পরে বাড়িটি সরকারের হাতে চলে গিয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরে অধুনা বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার বিখ্যাত সাহিত্যিকের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িকে ময়মনসিং শিশু অ্যাকাডেমি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু ১০ বছর আগে ওই বাড়িটি পরিত্যাগ করে দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বাড়িটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। শিশুরা যখন ওই বাড়ির চত্বরে যেত, তখন তাদের ঝুঁকি থাকত। সেই পরিস্থিতিতে যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে এবং অনুমোদন নিয়েই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সেখানে আধা-কংক্রিটের ভবন তৈরি করা হবে। তাতে একাধিক ঘর থাকবে। চলবে অ্যাকাডেমির কাজকর্ম।
ঘটনায় চরম উষ্মাপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আমি বাংলাদেশ সরকার ও ওই দেশের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন করব, এই ঐতিহ্যশালী বাড়িটিকে রক্ষা করার জন্য। ভারত সরকার বিষয়টিতে নজর দিন।’
