কলকাতা- ‘মহাকুম্ভ কি বিপর্যয় ছিল না? ঘোষণা করেছে?’ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনের পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর, উত্তরের বিপর্যয়গ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর বিকেলে উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই বিরোধীদের কার্নিভাল-বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতির সপাটে জবাব দিয়েছেন তিনি।
প্রকৃতির রুদ্ররোষ কয়েক ঘণ্টায় তছনছ করে দিয়েছে উত্তরবঙ্গকে। মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। সোমবার দুপুরেই নাগরাকাটা গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে যান। মঙ্গলবার মিরিকের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর ফিরে যান উত্তরকন্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মানুষ মারা যাচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, অথচ বলা হচ্ছে সেতু ভেঙে মৃত্যু হয়েছে। অন্য রাজ্যেও তো সেতু ভাঙছে। অনেক মানুষ মারা গেছে। আমরা তো এটা নিয়ে রাজনীতি করি না। মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে দিল্লি, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড-সর্বত্র এত দুর্যোগ হচ্ছে। দেখে নিন কারা কী কাজ করে আর আমরা কী কাজ করি? মহাকুম্ভ কী বিপর্যয় ছিল না? ঘোষণা করেছে? আমরা তো তা নিয়ে রাজনীতি করিনি। গতকাল থেকে নাগরাকাটা ব্রিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে পূর্ত দফতর। আমাদের কেন্দ্র এক টাকাও দেয়নি। গত বাজেটেও আপনারা দেখেছেন একমাত্র বাংলাকে টাকা দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পাঁচ বছর হল কেন্দ্র আবাস যোজনার টাকা দিচ্ছে না। গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাজের জন্য অর্থ দেওয়া বন্ধ। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যে রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার, তারা টাকা পাচ্ছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বিপর্যয়ের পরে আমরা সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করেছি। তাই বহু প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি। বহু সেতু ভেঙে গিয়েছে। রাস্তা, বাড়ি-ঘর সব ধ্বংস হয়েছে গিয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। আমরা নাগরাকাটা, মিরিক, রোহিণী রোড সর্বত্র মেরামতের কাজ শুরু করেছে। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি সব স্বাভাবিক করার। তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে নেপাল, ভুটানের দু’জন আছেন। তাঁদের দেহ নিজের দেশে পাঠানো হবে। দুর্যোগের মাঝে রাজনীতি এড়িয়ে যাওয়ার কথাই শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গে বন্যার জন্য ফের ভুটান থেকে জল ছাড়াকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
