বিজেপির পার্টি অফিসে মদের আসর! জামালপুরে ধুন্ধুমার কাণ্ড, সুকান্ত মজুমদারের হুঁশিয়ারি

কলকাতা – পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভবন’-এ মদের আসর। তা নিয়ে আদি বনাম নব্য বিজেপির সংঘাতের ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য নেতৃত্ব।

দলের প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শ পুরুষের নামে নামাঙ্কিত পবিত্র কার্যালয়ে এমন অনৈতিক কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

সূত্রের খবর, এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা।

সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিজেপি একটি নির্দিষ্ট আদর্শ মেনে চলা দল। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত ভবনের একটি আলাদা গরিমা ও পবিত্রতা আছে। সেখানে বসে কেউ যদি মদ্যপান করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, অভিযুক্তরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকেই আড়াল করা হবে না। তৃণমূলের ‘অপসংস্কৃতি’ বিজেপিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, শুধুমাত্র মদ্যপানই নয়, দলের তহবিলের টাকা আত্মসাতের যে গুরুতর অভিযোগ আদি বিজেপি কর্মীরা তুলেছেন, তাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিপাকে জেলা নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব: এদিকে, জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর ভূমিকা নিয়েও দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আদি শিবিরের অভিযোগ ছিল, তাঁর প্রশ্রয়েই অনুগামীরা এই সাহস পেয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযুক্ত নেতাদের চিহ্নিত করেছে এবং তাঁদের শোকজ (Show cause) করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বা অরূপ চক্রবর্তীরা যখন এই ঘটনাকে ‘বিজেপির আসল ডিএনএ’ বলে আক্রমণ করছেন, তখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অভিযুক্ত মণ্ডল সভাপতি বা সম্পাদকদের পদ থেকে অপসারিত করা হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জামালপুরের দলীয় কার্যালয় আদি শিবিরের দখলে থাকায় সেখানে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *