কলকাতা- উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান। নদীর জল পাহাড় থেকে ধেয়ে এসে নিমেষে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ধরালী গ্রামের বিস্তীর্ণ অংশ। ইতিমধ্যেই চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ বহু। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১১ জন জওয়ানও।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও এসডিআরএফ হাতে হাত মিলিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। মঙ্গলবার মাঝরাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৭০ জনকে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ধারালি অঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন।
ধারালি গ্রামের ক্ষীরগঙ্গা নদীর অববাহিকায় বন্যার জল একাধিক হোটেলে ঢুকে পড়েছে। বন্যার জলের সঙ্গে ঘরবাড়ি ও দোকানেও কাদা-মাটি ঢুকে পড়েছে। জেলা প্রশাসন আপাতত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধারালি ক্ষীরগঙ্গায় জলস্তর বৃদ্ধির কারণে বাজার এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ধারালিতে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ খবর নিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১ টা ৫০ মিনিট নাগাদ ধারালি গ্রামে প্রথম মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। কিছু সময় পরেই একই ধরনের দুর্যোগ হয় নিকটবর্তী সুখী টপ এলাকায়। মেঘভাঙা বৃষ্টির তীব্রতায় ক্ষীরগঙ্গা নদীর উচ্চ অববাহিকা থেকে ধেয়ে আসে বিশাল জলরাশি। সেই জলেই গ্রাম ভেসে যায়।
এখন যেন ধ্বংসস্তূপ ওই গ্রাম। প্রবল বৃষ্টিপাত চলছে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে। জলের তোড়ে ভেঙে ধুয়ে-মুছে গেছে ৪০ থেকে ৫০টা বাড়ি। ধারালি বাজারের একটা বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ৯ জন নিখোঁজ। ২ সেনা-সহ ১৩০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
