কলকাতা- দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের এক এমবিবিএস ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল বাংলা। ওই তরুণীর বাড়ি ওড়িশার জলেশ্বরে।
অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। মেয়ের শারীরিক অবস্থায় ভীষণ উদ্বিগ্ন বাবা জানিয়েছেন, তিনি আর তাঁর মেয়েকে বাংলায় রাখবেন না, যত দ্রুত সম্ভব ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
ওই ছাত্রীর বাবা সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানিয়েছেন, “আমার মেয়ে যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে। এখন হাঁটতেও পারছে না, শয্যাশায়ী। এই রাজ্যে মেয়েদের কোনও নিরাপত্তা নেই। আমরা ওকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিতে চাই। বাংলায় ওকে আর রাখতে চাই না। ও ওড়িশায় থেকেই পড়াশোনা চালাবে। ওর জীবন এখানে বিপদে”।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে, যখন ওই তরুণী এক বন্ধুর সঙ্গে রাতের খাবার আনতে বাইরে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায় এবং জোর করে তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ইতিমধ্যে এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সময় ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা পুরুষ সঙ্গীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বেদনাদায়ক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সরকার এই ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলে। মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনেরই উচিত ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাত ১২.৩০টার সময় কীভাবে মেয়েটি ক্যাম্পাসের বাইরে এল সেটাও বড় প্রশ্ন। কলেজের দায়বদ্ধতার বিষয়টি এড়ানো যায় না।” পাশাপাশি তিনি ওড়িশা সরকারের প্রতিও কটাক্ষ করে বলেন, “ওড়িশার সমুদ্রসৈকতে ধর্ষণের ঘটনায় ওদের সরকার কী করেছে?”
