কলকাতা- আজ আজ মাতৃভাষা দিবস। মায়ের ভাষা বলতে প্রাণ দিতে হয়েছিল সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারদের। পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হতে হয়েছিল তাঁদের। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন।
বাঙালির লড়াই চিরন্তন। তা সে ভাষা আন্দোলন হোক বা ভিটেমাটি ছেড়ে একদেশ থেকে আরেক দেশে আসা হোক! প্রান্তিক বাঙালির লড়াইয়ে গাঁথা লেখা আছে ইতিহাসের ছত্রে ছত্রে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে বাঙালির হারানোর ফিরিস্তি।
ওপার বাংলায় ভিটে-মাটি, সাজানো সংসার ফেলে এপারে আসতে হয়েছে কোটি কোটি বাঙালিকে। শিখড়ের টান ভোলেননি বহু মানুষ। ওপারে তাদের ফেলে আসা আবেগের বসতবাড়ি, চেনা পরিসর এখন কেমন আছে, জানতে মন চায় অনেকের। তবে মন চাইলেই তো আর হল না, সেসব জেনে ওঠা বড় কঠিন।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সত্যি কি তা কঠিন! না বোধ হয়। আজ আমরা সেরকমই এক গল্প বলব। কীভাবে ওপার বাংলায় ফেলে আসা বসতবাড়ির এখনকার অবস্থা জানতে পারলেন একজন!
বাংলাদেশে ফেলে আসা আমার পূর্বপুরুষের ভিটের এখন কী হাল, সেটাই জানতে চেয়েছিলেন হাওড়া নিবাসী অলি কর রাহা। তিনি একটি পোস্ট করেন ফেসবুকের পেজ বঙ্গভিটা-তে। এই পেজ আগেও বহু মানুষের ভিটেমাটির বর্তমান অবস্থার খোঁজ দিয়েছে। এবারও সেটাই হল।
বাংলাদেশের কিছু মানুষের সৌজন্যে, বিশেষ করে বঙ্গভিটা গ্রুপের সদস্য শেখ মনিরুল ইসলামের ঐকান্তিক সহায়তায় অলি ১৯৪৭ সালে তাঁদের ফেলে আসা পৈতৃক ভিটের বর্তমান অবস্থার খোঁজ পান।
তাঁর ৯২ বছরের পিসি যিনি ১৪-১৫ বছর পর্যন্ত ও দেশেই ছিলেন তিনি জানিয়েছেন, এই বাড়িটি একটা সময় তাঁদেরই ছিল।
ফেসবুক গ্রুপ বঙ্গ ভিটা অনেকেরই পছন্দের। সেখানে ধর্মের কোনো কচকচানি নেই, রাজনীতি নেই, নোংরামি নেই। সবাই সবার ফেলে আসা দিনগুলো খুঁজে পেতে চায়। হারিয়ে যাওয়া মানুষ, হারিয়ে যাওয়া ভিটেমাটির খোঁজ করেন অনেকে। অনেকে পানও।
অলি কর রাহা দু’দিন আগে নিয়ম মেনে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে অ্যাডমিন-কে বিস্তারিত লেখেন। তিনি পুরোটা মন দিয়ে শুনে ছবি চান। তার পর তিনি নিজেই গুছিয়ে পোস্ট লিখলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে খুলনার এক বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম মহাশয় খুলনার রাহাবাড়ির খোঁজ দিলেন। ছবি দিলেন। সেটি এখন সেখানকার একটি কলেজে পরিণত হয়েছে। কলেজটির নাম দিয়ে গুগল ম্যাপে ফেলে কিছু তথ্য যাচাই করা হয়। তার পর সেই পিসি কনফার্ম করেন।
১৯৪৭ সালে অলি কর রাহার পূর্বপুরুষ যখন এ দেশে চলে আসেন তখন তাঁর বড় পিসির ১৫ বছর বয়স ছিল। তাঁর বাবা তখন ১ বা ২ বছর বয়সী৷ দাদু- ঠাকুমা কেউই বেঁচে নেই। তাই ওদেশের কথা একমাত্র বলতে পারেন তাঁর এই পিসিই। আর তিনিই জানালেন, তাঁদের একসময়ের বসতবাড়িতে এখন গমগম করে পড়ুয়াদের কোলাহলে। সেটি এখন বাংলাদেশের নামকরা এক কলেজ।
