কলকাতা- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করল পরিবার। সোমবার মৃত ছাত্রীর বাবা যাদবপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
এদিন সকালে প্রথমে লালবাজারে যান অনামিকার বাবা। সেখানে তদন্তকারীন ও হোমিসাইড বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপরই যাদবপুর থানায় গিয়ে তাঁর বাবা অভিযোগ দায়ের করেন।
১১ সেপ্টেম্বর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছেই এক পুকুর থেকে অনামিকার দেহ উদ্ধার হয়। এর পর তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
প্রথম থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও বলা হয়, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অনামিকার। কিন্তু তিনি কীভাবে পুকুরে পড়ে গেলেন তা স্পষ্ট নয়।
তাঁর বাবার অভিযোগ, অনামিকার সাঁতার জানতেন না। তাঁকে নিশ্চয়ই কেউ ডেকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। তাছাড়া শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য অনামিকা পুকুরের পাড়ে গিয়েছিলেন বলে অনুমান করা হলেও তা মানতে নারাজ তাঁর বাবা। তাঁর দাবি, অনামিকা অন্ধকারে ভয় পেতেন।
এদিকে, ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। কারণ গোটা ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। রয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীও। কিন্তু তারপরেও অনামিকা কীভাবে পুকুর পাড়ে চলে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সময় অনামিকা মদ্যপ ছিলেন কিনা, তা জানতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বিষয়টি।
