ছেলের সঙ্গে কথা কম, স্নান করতেও স্ত্রী সাহায্য করেন! এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত রমেশ কেমন আছেন?

কলকাতা- ১২ জুন আহমেদাবাদে ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচেছিলেন মাত্র একজন, ব্রিটেনের লেস্টারে বসবাসকারী ৪০ বছরের বিশ্বাসকুমার রমেশ।

দুর্ঘটনার পর তাল কেটেছে তাঁর স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে। সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করছে তাঁকে। হারাতে হয়েছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে-নিজের ভাইকে। সেই শোক যেন আজও বুকে। দুর্ঘটনার পর শারীরিক ক্ষত সেরে গেলেও মানসিক যন্ত্রণা যেন কিছুতেই কাটছে না।

এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে নিজের ভাই অজয়ের সঙ্গেই উঠেছিলেন রমেশ। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই বিমানের ১১এ আসনে বসেছিলেন রমেশ। তাঁর পিছনের দিকে আসনে বসেছিলেন ভাই অজয়। এরপর কয়েকটা মিনিট। সব শেষ। একটা আস্ত বিমানকে আগুনে পুড়ে খাক হতে দেখেছিল গোটা বিশ্ববাসী।

বিমানে ২৪৩ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪২ জনেরই মৃত্যু হয়, নিহত হন মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন। এরপর কেটে গিয়েছে চার মাস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ নাগরিক দুর্ঘটনার পর ভারতে কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন, তারপর ফিরে যান ব্রিটেনে।

দিউ-তে তাঁদের পারিবারিক মাছ ধরার ব্যবসা দুর্ঘটনার পর প্রায় ধ্বংস। ফলে আর্থিক টানাপড়েন চলছে। ‘স্কাই নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বর আমায় নতুন জীবন দিয়েছেন কিন্তু আমার সব সুখ কেড়ে নিয়েছেন…আমার পরিবার সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে।’

রমেশ জানান, এখন তাঁর বেশিরভাগ সময় কাটে একা একা। ঘরের বাইরে যান না। কারও সঙ্গ পছন্দ হয় না। ঘুমোতেও পারেন না তিনি। চোখ বুজলেই ভেসে আসে সেই মুহূর্তটা। দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠেন মাঝরাতে। কানে আসে বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার নৈঃশব্দ, বাড়ি ভেঙে পড়ার শব্দ, আহতদের কান্না। ভাইয়ের বদলে নিজের বেঁচে যাওয়া এবং এই ঘটনার মানসিক আঘাত এখন বিশ্বাসকুমারের নিত্যসঙ্গী। তাঁর কথায়, ‘আমি শুধু আমার ভাইয়ের কথা ভাবি… আমার সবকিছু জুড়ে ছিল ও।’ মানসিক ভাবে তো বটেই, শারীরিক ভাবেও খুব দুর্বল হয়ে গিয়েছেন তিনি।

শরীরের একাধিক জায়গায় ব্যথা, জ্বালা পোড়ার দাগ-ক্ষত। সামান্য স্নানের জন্যও স্ত্রীর সাহায্য নিতে হয়। ঘরে রয়েছে চার বছরের সন্তান, তার সঙ্গেও বেশি কথা বলেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরেই থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *