কলকাতা- দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সুপার এইট ম্যাচে হতাশাজনক হার। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সেমিফাইনাল খেলা এখন অনিশ্চিত।
এই পরিস্থিতিতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামবে ভারত। তার আগে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে প্রথম একাদশে সঞ্জু স্যামসনের অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।
ভারতের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং অর্ডারের শুরুতেই তিন বাঁহাতি ব্যাটারের উপস্থিতি। ঈশান কিষাণ, অভিষেক শর্মা এবং তিলক বর্মা—টপ অর্ডারের এই বিন্যাস দেখে বিপক্ষ দলগুলো শুরুতেই অফস্পিনারদের লেলিয়ে দিচ্ছে।
কোটাক স্বীকার করেছেন, গত তিনটি ম্যাচেই একই ছকে ভারত ঘায়েল হয়েছে। তিনি বলেন, “টানা তিন ম্যাচে শুরুতেই উইকেট হারালে সেটা নিয়ে ভাবতেই হয়। আমরা আলোচনা করেছি। অফস্পিনারদের বিরুদ্ধে চাপ সামলাতে টপ অর্ডারে বদল আসতে পারে।”
সঞ্জু স্যামসন দলে এলে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন ভারতের ব্যাটিংকে স্থিতি দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তরুণ ব্যাটারদের অফ-ফর্ম নিয়েও মুখ খুলেছেন কোচ। অভিষেক শর্মা গত চার ম্যাচে মাত্র ১৫ রান করেছেন, অন্যদিকে, তিলক বর্মা রান পেলেও তাঁর ধীরগতির ব্যাটিং দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
কোটাক এখনই আতঙ্কিত হতে নারাজ। তাঁর মতে, “গত দেড় বছরে আমরা নিয়মিত ১৫০-র বেশি রান তুলেছি। একটা খারাপ পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটারদের বিচার করা ঠিক নয়। অভিষেক হয়তো খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ঈশান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভাল খেলেছে।”
সমালোচনার তির শুধু ক্রিকেটারদের দিকে নয়, খোদ ব্যাটিং কোচ কোটাকের দিকেও ধেয়ে আসছে। দলের ব্যর্থতায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান যে, দলের অভ্যন্তরে কৌশলগত আলোচনা নিয়মিত হয়। গৌতম গম্ভীর নিজে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। কোটাক স্পষ্ট করে দেন যে, হারের পর সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক, তবে ভারতের আগ্রাসী ঘরানার ক্রিকেট থেকে দল সরে আসবে না।
ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় প্রত্যাশার পারদ আকাশছোঁয়া। কোটাক মনে করিয়ে দিয়েছেন, “বিশ্বকাপ জিততে গেলে চাপ নিতেই হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চাপ মারাত্মক থাকেই। আমরা কলম্বোর পিচের মতো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতেও তৈরি।” সব মিলিয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে ভারতীয় দল যে নতুন ছকে মাঠে নামতে চলেছে, তা কোটাকের কথাতেই পরিষ্কার।
